বিয়ে ছাড়াই স্বামী-স্ত্রী’র মতো থাকতো মুরাদ ও ফাল্গুনী

ইজিবাইক চালক মারুফ হত্যাকাণ্ডে আদালতে দুই আসামির দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

যৌনকর্মী সুবাধে মুরাদের সাথে সম্পর্কে জড়ায় ফাল্গুনী। বিয়ে ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর মতোই এক সাথে থাকতো তারা। আবাসিক হোটেল থেকে মুরাদের বাড়িতে আসা যাওয়ার পথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে ইজিবাইক চালক মারুফ সর্দার ওরফে ওমরের সাথে। ইজিবাইক ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। হত্যার পর গোমর ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফাল্গুনী মুরাদ মোল্লাকে বিয়ে করে। মারুফের মরদেহ বাড়ির উঠানের একপাশে মাটি চাপা দিয়ে দিব্যি স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে থাকেন তারা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে চালক মারুফ হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনী খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল মুহিম এর আদালতে টানা ৪ ঘণ্টা এ জবানবন্দি প্রদান করেন। এর আগে গত সোমবার রাতে ইজিবাইক চালকের বোন লিনা খাতুন বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন।

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, নিহত মারুফ খালিশপুর থানার পিপলস ৫ তলা ব্যাচেলার কলোনির ৫২৫ নং কক্ষে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করত। বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য ইজিবাইক চালাতেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ মার্চ খুব সকালে বাড়ি থেকে বাইক চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়িতে ফেরেনি সে। এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়।

তিনি বলেন, ফাল্গুনী একজন পেশাদার যৌনকর্মী। খুলনার আবাসিক হোটেলগুলোতে ‘শোভা মনি’ হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দু’দিন আগে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার সঙ্গীতা হোটেল থেকে বের হয়ে মারুফের গাড়ি রিজার্ভ করে হরিণটানা থানার ব্লু- স্কাই আবাসিক এলাকায় মুরাদের বাড়ি নিয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে মুরাদের বাড়িতে অবস্থান করত সে। ইজিবাইকে যাওয়ার পথে চালকের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে ওই নারী।

তিনি আরও বলেন, মোস্তফার মোড়ে মুরাদের ছোটোখাটো একটি হোটেল আছে। চালকের এক পা থাকায় ইজিবাইকের ওপর চোখ পড়ে তাদের। আর এ কারণে তাকে হত্যার ছক কষতে থাকে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মার্চ চালককে ফোন করে মুরাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। গল্পের এক পর্যায়ে তাকে অজ্ঞান করার জন্য প্রথমে চায়ের কাপে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় রাত ১০ টার মধ্যে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর চালকের শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। মরদেহটি বাইরে ফেলে দেওয়ার চিন্তা করেছিল তারা। কিন্তু জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির ভেতরের উঠানে মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরে টুকরো টুকরো করে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেওয়া হয়।

অফিসার ইনচার্জ হেলাল আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রহস্য পুলিশকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে বিয়ে করার কথা জানায় ফাল্গুনী খাতুন। বিষয়টি জানাজানি যাতে না হয় সেজন্য তাকে বিয়ে করে মুরাদ। দাম্পত্য জীবন শুরুতে ভালো চলছিল। কিছুদিন পর এ দম্পতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মুরাদ প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করত। গত ১৩ জুলাই রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করে মুরাদ। সোমবার সকালে থানায় এসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে ইজিবাইক চালক মারুফ হত্যার রহস্য ফাঁস করে দেয় সে। তাকে থানায় আটক রেখে বাড়ি থেকে মুরাদ মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেও সে। পরবর্তীতে তার দেখানো স্থান থেকে ইজিবাইক চালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুপুরে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে নেওয়া হয় মরদেহ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন