শুক্রবার । ১২ই জুন, ২০২৬ । ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বেনাপোল বন্দর শেড থেকে জব্দকৃত মালামাল বদলানোর অভিযোগ

বেনাপোল প্রতিনিধি

মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রিপিস, বেবিওয়্যার ও প্রসাধনী জব্দ করেছিল বেনাপোল কাস্টমস হাউস। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বন্দরের জিম্মায় রাখা সেই চালান থেকেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে রাখা হয়েছে অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য সামগ্রী। কোরবানি ঈদের ছুটির মধ্যে এই ঘটনায় বন্দরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, স্থলবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বন্দরের ভেতরের কারও সহযোগিতা ছাড়া এমন দুঃসাহসিক চুরি ও জালিয়াতি সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে কাস্টমস।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শেড ইনচাজকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করে। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০১০০১৬৩৩৩। সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে চালানটি গ্রহণ করে বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টম্সের কায়িক পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। পরীক্ষাকালে ১০৮ কার্টনে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রিপিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। কাস্টম্সের হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘আমদানি করা ভারতীয় দামি পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশি বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব আলামত প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্র্যাফিক) মোঃ শামীম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। শেড ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালালকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন