চৌগাছা উপজেলা দেশ সেরা সরকারি মডেল হাসপাতলটি একশ’ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ জুন উদ্বোধন করা হবে। চলছে রং ও ধোঁয়া মোছার কাজ। একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত এই হাসপাতালে ব্যাপক সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা ও জনবল সংকট রয়েছে। এ সংকটের অবসান হলেই চিকিৎসাসেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।
সরকার দেশসেরা এ মডেল হাসপাতালটির সেবার মান ধরে রাখতে ও একশ’ শয্যার কার্যক্রম চালু করতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ৬ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করেছে। প্রথমে এ হাসপাতালটি ছিল ৩০ শয্যার, পরে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। চৌগাছা ছাড়াও যশোর সদর, শার্শা, ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার রোগীরা এখানে সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬শ’ থেকে ৭শ’ রোগী নিবন্ধিত হন। ৫০ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে গড়ে ৮০-৯০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
এ হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ মাস আগে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ১শ’ শয্যার কার্যক্রম আজও শুরু করা যায়নি। এতে নতুন ভবন থাকতেও রোগীদের বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে তিনটি প্রকল্পে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালের এ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। এরমধ্যে ছয়তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের মূল ভবন ২১ কোটি ৪৬ লাখ ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল এই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের পাঁচটি আবাসিক ভবন ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ সরবরাহ লাইন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
হাসপাতালটিতে কক্ষ সংকটের কারণে ডায়রিয়া রোগীরা শিশু ওয়ার্ডের খোলা বারান্দায় চিকিৎসা নেন। সেখানে অবাধে চলাচল করেন রোগীদের আত্মীয়-স্বজনরা ও রোদ-বৃষ্টিতে রোগীদের ব্যাপক কষ্ট হয়। শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় কয়েকটি শয্যা ফেলে রোগী রাখা হয়েছে। রোগীদের বারান্দায় শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভবনের গ্রিল দিয়ে বাইরে থেকে ঝড় বাতাসে ঢুকছে ধুলা-বালি। আছে চিকিৎসা ও কর্মচারীর সংকট। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকে। বর্হির্বিভাগেও রোগীদের চাপ থাকে অনেক। অথচ পাশেই ছয়তলা নতুন ভবন পড়ে রয়েছে। কিন্তু ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন না মেলায় ওই ভবন ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বর্তমানে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতাল নতুন ছয়তলা ভবনের ভেতরে ধোঁয়া-মোছার কাজ চলছে। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ভেতর-বাইরে চলছে সংস্কার ও রঙ্গের কাজ। ভবনে স্থাপিত লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রপাতি ও অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রকল্পের কাজ শেষ করে ভবনগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন সব দায়দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের।’
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আহসানুল মিজান রুমী বলেন, ‘১৩ জুন হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্বোধন হবে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, জনবল, রোগীদের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা বলেন, ‘চৌগাছা হাসপাতালের ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ১৩ জুন উদ্বোধন করা হবে। সেবার মান বাড়াতে আমরা নতুন করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, ‘হাসপাতালটি ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। আশা করছি ১৩ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

