বৃহস্পতিবার । ৪ঠা জুন, ২০২৬ । ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

অভয়নগর প্রতিনিধি

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখিকূলের অবদান অনস্বীকার্য। প্রকৃতির সৌন্দর্যের একটি অনবদ্য অংশ বাবুই পাখির কারুকার্যখচিত বাসা। কারুকার্য এবং বুননশিল্পী উন্নত দেশে প্রযুক্তিকেও হার বানিয়েছে বাবুই পাখির বাসা। অভয়নগরের প্রকৃতি থেকে কারুকার্য খচিত এসব বাসা বিলীন হতে চলেছে।

কারুশিল্পের নিখুঁত নিদর্শন, পরিশ্রম ও একাগ্রতার প্রতীক বাবুই পাখির বাসা আজ হারিয়ে যাওয়া নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। একসময় তাল, খেজুর কিংবা উঁচু গাছে শোভা পাওয়া এই বাসা এখন যশোরের অভয়নগরে খুব কমই চোখে পড়ে। সম্প্রতি উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের এরশাদ এতিমখানা মাদ্রাসার সামনে কিছু তালগাছে বাবুই পাখির বেশ কয়েকটি বাসা দেখা গেছে। মাদ্রাসার সামনে কয়েকটি তালগাছের পাতাগুলোতে ঝুলছে একাধিক বাসা। নওয়াপাড়া থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দৃশ্যটি দেখতে ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।

বাবুই পাখিকে ‘তাঁতি পাখি’ ডাকা হয়। গ্রীষ্মকাল তাদের প্রজনন মৌসুম। এই সময় পুরুষ বাবুই খড়কুটো জোগাড় করে নিজের ঠোঁট দিয়ে পাতা সেলাইয়ের মতো করে নিপুণভাবে বাসা গড়ে তোলে। বাবুইয়ের বাসা আগের মতো গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে আর তেমন দেখা যায় না। আর শহর অঞ্চলে প্রশ্নই ওঠে না। তাল ও খেজুরগাছ কমে যাওয়ায় তাদের বাসা বানানোর উপযুক্ত স্থানও কমছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মোড়ল বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমাদের তালগাছে বাবুই বাসা বানায়। ছোটবেলায় এ দৃশ্য ছিল খুব স্বাভাবিক। এখন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, ফলে বাসাও হারিয়ে যাচ্ছে।’

প্রেমবাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিমউদ্দীন খোকন বলেন, ‘বাবুই পাখির বাসা একসময় বাংলার গর্ব ছিল। আজ তা স্মৃতির পাতায়। তাদের রক্ষায় এখনই সচেতনতা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় এসব দেখবে।’

উপজেলার সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই পাখিগুলো শুধু আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষারও উপাদান। ওদের বাসা বানানো দেখেই আমরা শিখতাম ধৈর্য আর পরিশ্রম। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, ‘বাবুই পাখি টিকিয়ে রাখতে তাল-খেজুরসহ দেশীয় গাছ আরও বেশি লাগাতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বাবুই পাখির প্রজন্ম বৃদ্ধিতে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন