বৃহস্পতিবার । ২৮শে মে, ২০২৬ । ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শিবিরের কমিটি গঠন ঘিরে সংঘর্ষ, জেলা সভাপতির পদত্যাগ দাবি

গেজেট প্রতিবেদন

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ মে) উপজেলার উত্তর শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবহাটা উত্তর শাখা ছাত্রশিবিরের কয়েকজন দায়িত্বশীলের পদত্যাগ ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এ সময় জেলা পর্যায়ের নেতারা দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সেখানে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এছাড়া অবরুদ্ধ জেলা নেতাদের উদ্ধার করা হয়।

দেবহাটা উত্তর শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন জানান, আমাদের শাখার ১০ জন দায়িত্বশীল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিল। জেলা কমিটি আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তা গ্রহণ করেছে। পরে বুধবার নতুন কমিটি গঠনের জন্য আসে। জেলা সভাপতি নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করছেন। আমরা জেলা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরা জেলা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জোবায়ের হোসেন জানান, দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন স্বেচ্ছায় কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়। নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের জন্য জেলা সেক্রেটারির নেতৃত্বে নেতারা সেখানে গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে তারা নিরাপদে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, বাৎসরিক সেটিং ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকেই বাদ পড়তে পারেন— এমন আশঙ্কা থেকেই তারা বাধা দিয়ে নেতাদের আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক জানান, জেলা ও উপজেলা শিবিরের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ নিয়ে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ঈদের পর বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন