শনিবার । ২৩শে মে, ২০২৬ । ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শীর্ষ চারে থাকার লক্ষ্য শান্তদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সেক্ষেত্রে প্রোটিয়ারাই হতে পারে বাংলাদেশের প্রেরণা। টেম্বা বাভুমা হতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্তর আদর্শ। একটা দল, যাদের কেউ আমলেই নেয়নি–সেই দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে নিয়েছিল গেলবারের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০২৩-২৫ টেস্ট চক্রে বাভুমাদের দল প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে হারার পরও লর্ডসে ফাইনাল খেলেছিল। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেবার টানা সাতটি টেস্ট জিতে ভারতকে পেছনে ফেলে ফাইনালের টিকিট কেটেছিল প্রোটিয়ারা।

এবার নাজমুল শান্তর সামনে একই সুযোগ রয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে চার টেস্ট খেলে দুটিতে জয়, একটিতে ড্র আর একটিতে হার। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও বাংলাদেশের হাতে আছে আটটি টেস্ট; যার পাঁচটিতে জিতলে বাভুমাদের মতো শান্তদেরও লর্ডসের ব্যালকনিতে বসার সুযোগ মিলবে। ‘মূল লক্ষ্য হলো, দেশের মাটিতে যতগুলো টেস্ট আছে, সেগুলোতে যেন না হারি। যদি আমরা তা পারি এবং বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সিরিজে দু-একটা টেস্ট জিততে পারি, তাহলে মনে হয় আমরা শীর্ষ চারে জায়গা করে নিতে পারব। সেটা করতে পারলে অনেক বড় অর্জন হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই মিডিয়ার সামনে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যের কথা জানান সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। যদিও তিনি আর শান্তদের সঙ্গে থাকছেন না। আগামী মাস থেকে বিসিবির এইচপি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন। তবে গেল দুই বছরে দলের সঙ্গে থেকে সালাউদ্দিনের বিশ্বাস টেস্ট দলে যে পরিবর্তন এসেছে, তা এই দলটিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

‘আমাদের শেষ ছয় মাসে দলে একটা পরিবর্তন এসেছে। আসলে আমাদের সবারই একটু ধৈর্য ধরতে হবে। দলে একসঙ্গে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার অবসরে চলে যাওয়ায় একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেটা পূরণ করতে একটু সময় দিতেই হবে। যদিও এখন দলে অনেক খেলোয়াড়ই বেশ পরিণত হয়েছে। দলও তিন ফরম্যাটে ভালো অবস্থায় আছে। এটি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা যাবে না। আমরা মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো করিনি। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়েও খুব উপরে উঠতে পারিনি। তবে এটি ধীরে ধীরে হবে। বর্তমান দলটিতে একটা উইনিং কালচার তৈরি হয়েছে। আগে একটি ম্যাচ জিতলে পরে অনেকগুলো হারতাম। সেটিতে পরিবর্তন এসেছে। আস্তে আস্তে জয়ের অভ্যাস তৈরি হবে।’

জাতীয় দলের কোচিং প্যানেল থেকে সরে গেলেও শান্তদের কাছ থেকে খুব দূরে সরে যাচ্ছেন না তিনি। ‘আমি তো বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানে ক্রিকেট খেলবে, আমিও এখানেই থাকব। কাছাকাছি থাকব। মিস করার তেমন কিছু নেই। হয়তো ড্রেসিংরুমের ভেতরটা মিস করতে হবে। কোচিং তো আমাকে করাতেই হবে, ওরাও আসবে আমার কাছে।’

সালাউদ্দিনের বিশ্বাস টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হাতে থাকা আটটি ম্যাচে জয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন শান্তরা।

বর্তমান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়ন চক্রে (২০২৫-২৭) বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। সেখানে ডারউইন আর ম্যাকাইয়ে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। নভেম্বরে আরও দুটি টেস্ট খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবেন শান্তরা। সেখানে জোহানেসবার্গ আর সেঞ্চুরিয়নে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবেন লিটনরা। এ ছাড়া আগামী বছর এই টেস্ট চক্রের শেষ দিকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সিরিজ খেলার সূচি রয়েছে বাংলাদেশের।

এই আটটি টেস্টের মধ্যে উইন্ডিজ আর ইংল্যান্ডকে হারানোটাই এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য শান্তদের। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে যদি অন্তত একটি টেস্ট ড্র করতে পারে, তাহলেই সেরা চারে থাকা সম্ভব বাংলাদেশের।

গেলবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১২টি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিতেছিলেন মুশফিকরা। সেখানে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে একটি আর পাকিস্তানের মাটিতে দুটি টেস্ট জয় তালিকার সাত নম্বরে রেখেছিল তাদের। সেই চক্রে ঘরের মাঠে মাত্র একটি টেস্টে জয় পেয়েছিলেন শান্তরা। সেটি ছিল উইন্ডিজের বিপক্ষে। এবার ঘরের মাঠে দুর্গ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানকে দুটি টেস্ট হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে তাদের।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন