শুক্রবার । ৮ই মে, ২০২৬ । ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩
বিচার প্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ

খুলনা আদালত চত্বরের বিশ্রামের ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার প্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা ন্যায়কুঞ্জ এখন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের আশ্রয় না দিয়ে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে ন্যায়কুঞ্জের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ খুলনার আদালত চত্বরে নির্মিত ন্যায়কুঞ্জের উদ্বোধন করেন। এ কুঞ্জের মূল উদ্দেশ্যে ছিল বিচারপ্রার্থীদের বসার জায়গা, শৌচাগার, সুপেয় পানি এবং শিশুদের দুগ্ধপান করার ব্যবস্থা। কিন্তু সরেজমিনে তার বাস্তব চিত্র দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন। কেউ সেখানে কিছু না কিনে বিশ্রাম নিতে গেলে বাধে বিপত্তি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আইনজীবী বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির পেছনে থাকা চা-বিক্রেতা রাজীবকে ন্যায়কুঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ সে কীভাবে এখনকার দায়িত্ব পেল তা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা হলেও খাবার কিনে তাদের সেখানে বসতে দেওয়া হয়। এখানে বেকারি আইটেম ও চা-বিক্রি করা হয়। দূর-দুরন্ত থেকে আসা ব্যক্তিদের বসার বদলে এখানে আইনজীবীদের পার্টি হয়। অনেক সময় তার আদালতের বারান্দায় বসে বিশ্রাম নেয়।’

ন্যায় কুঞ্জের ভেতর প্রবেশ করে এর সত্যতা মেলে। আইনজীবীরা বিভিন্ন চেয়ার দখল করে খোঁশ গল্পে মেতে রয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ন্যায়কুঞ্জে কথা হয় চায়ের দোকানি রাজিবের সাথে।

তিনি জানান, ‘সমিতির পেছনে তার চায়ের দোকান ছিল। ল্যান্ড সার্ভেয়ার আদালতের পেশকার আবু সাইদ সেতু মামার কারণে এখানে আসতে পেরেছি। এখনকার দেখভাল ও পয়-পরিষ্কারের দায়িত্ব আমার।’

সেই সুবাদে সুযোগ গ্রহণ করা। মাসে কত টাকা ভাড়া দিতে হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনও টাকা দিতে হয়না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আদালতের নাজির মোঃ জাকারিয়া শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যে উদ্দেশ্যে ন্যায়কুঞ্জ তৈরি করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।’

বিচারপ্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও আমাদের কাছে আসেনি।’

তিনি আরও জানান, ‘বিচারপ্রার্থীরা এখানে আসাবেন, বিশ্রাম নেবেন। যদি কেউ কারও সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকে তাহলে আমাদের জানাবেন। সাথে সাথে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুঞ্জে থাকা রাজিবের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের সময়ে শপিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।’

এদিকে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ল্যান্ড সার্ভেয়ার আদালতের পেশকার আবু সাইদ সেতু জানান, ‘বছরে ৬ হাজার টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে চায়ের দোকানি রাজীবের নিকট থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। দুর্ব্যবহারের এমন কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন