শুক্রবার । ৮ই মে, ২০২৬ । ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩

অমিতাভ সরকারের মেধায় উদ্ধার হয় বেণী মাধব চৌধুরির বসতবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৯৫ সাল। অমিতাভ সরকার তখন ফুলতলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বেণী মাধব রায় চৌধুরির পৈতৃক ভিটে উদ্ধার করে নিজেকে স্থান করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ৩১ বছর যাবৎ রবীন্দ্র ভক্তরা তার এ অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৯৫ সালের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত হয় দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স স্মারক গ্রন্থ। এ গ্রন্থে তার লেখা প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘যে প্রক্রিয়ায় উদ্ধার হয় বিশ্ব কবির শ্বশুর বাড়ি’। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিনডিহি বেণী মাধব রায় চৌধূরীর কন্যা মৃণালিনী দেবীর সাথে বিয়ে হয় কবিগুরুর। সে কারণেই দক্ষিণডিহি ইতিহাস খ্যাত। ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে চৌধুরি বাড়ির দূরত্ব ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার। বাড়িটি পুরাতন দ্বিতল ভবন। নিচ তলায় তিনটি কক্ষ আর ওপর তলায় দুটি কক্ষ। চৌধুরি পরিবারের ভিটেবাড়ির পরিধি ৪ দশমিক ৪১ একর।

সিএস খতিয়ান অনুযায়ী এ সম্পত্তির মালিক কবিগুরুর শ্যাক নগেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরি। উক্ত সম্পত্তির সিএস খতিয়ান নাম্বার ৯১০। পরবর্তী সময় এস এ জরিপে উক্ত সম্পত্তির মধ্য থেকে ৭ দশমিক ৮ একর নগেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরির পুত্র ধীরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরি ও বীরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরির প্রত্যেকের নামে আট আনা অংশ রেকর্ড ভুক্ত হয়। চৌধুরি পরিবার দেশ ত্যাগ করলে উল্লিখিত পরিমাণ সম্পত্তি অর্পিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

দক্ষিণডিহির কলম সরদারের পুত্র আজাহার উদ্দীন সরদার ও হাতেম সরদারের পুত্র আকবর সরদার এবং আব্দুর রউফ সরদার ২ দশমিক ৩৯ একর কৃষি জমি অবৈধভাবে ভোগ-দখল করতে থাকেন। ভবনসহ ৩ দশমিক ৭৩ একর অর্পিত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করেন একই গ্রামের জামাল উদ্দীন বিশ্বাসের পুত্র আর এস বিশ্বাস, রুস্তম বিশ্বাস ও তাদের স্বজনরা।

দখলদাররা বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে উক্ত সম্পত্তি দখল করতে থাকেন। দেওয়ানি আদালতের একতরফা সোলেনামা বিধান অনুযায়ী, অবৈধ দখলদাররা অর্পিত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা ভূমি অফিসে ৮০-৮১ ও ৮২-৮৩ নাম্বারে নিজ-নিজ নামে নাম পত্তন করতে সক্ষম হন। রবীন্দ্রনাথের শ্বশুর বাড়ি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে এখানে রবীন্দ্র চর্চা গড়ে ওঠে। পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শামিমা সুলতানা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি এ বাড়িটিকে পর্যটন পল্লি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৯৯৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবৈধ দখলদারদের নাম পত্তন বাতিল করতে দুটি মিসকেস রিভিউ হয়। অবৈধ দখলদাররা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে না পারায় ১৯৯৫ সালের ৬ আগস্ট কবির শ্বশুর বাড়ি সরকারের অনুকূলে আনা হয়। অবৈধ দখলদাররা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন। সে মোতাবেক পুনর্বাসিত করা হয়। ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শামিমা সুলতানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি সরকারের পক্ষে জমি ও ভবন দখল নেন। ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর এখানে রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উদ্বোধন হয়

(তথ্য সূত্র : দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স স্মারক গ্রন্থ, ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৫)।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন