ফুলতলা উপজেলা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণডিহি গ্রাম। ভৈরব নদের তীরে বিশাল পরিধির বাড়িটি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের শ্বশুর বাড়ি। সে কারণেই এত ঢাকঢোল পেটানো। ১৯৯০ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাণী পত্রিকায় স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিণডিহির দ্বিতল বাড়ি নামে মাসুদুল হকের প্রবন্ধ ছাপা হয়। এ প্রবন্ধে বলা হয়, বিয়ের পরে কবি গুরু এখানে এসেছিলেন। তখন বেজেরডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে পালকিতে কবি গুরুকে শ্বশুর বাড়িতে আনা হয়। শ্বশুর বেণী মধাব রায় চৌধূরী। প্রবন্ধটি সাহিত্যানুরাগীদের মধ্যে সাড়া পড়ে। কবি গুরুর শ্বশুর বাড়িকে নিয়ে ড. আশরাফ সিদ্দিকী ও বিধান দাস গুপ্ত অনেক প্রবন্ধ লেখেন। এই বাড়িটি ছিল অবৈধ দখলদারদের কবলে।
১৯৯৫ সাল। কাজী রিয়াজুল হক তখন খুলনার জেলা প্রশাসক। তার হৃদয়ে কৌতূহল জাগে, কবি গুরুর স্মৃতি বিজড়িত শ্বশুরালয় দেখার জন্য। একই বছরের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স স্মারক গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন, ছায়া ঘেরা এ বাড়িটি ছিল অবৈধ দখলদারদের কবলে। পরিধি ৮ দশমিক ৪১ একর। পরিদর্শনের পর তিনি অনুভব করলেন, আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কবি গুরু। সু-দূর বলাতন লেকটি তার নামানুসারে। তিনি স্থানীয় রবীন্দ্র স্মৃতি পরিসরের সাথে আলোচনার পর অনেক তথ্য উদ্ঘাটন করেন। সিদ্ধান্ত নেন, দখলদারদের কবল থেকে বাড়িটি উদ্ধার করতে হবে। সরকারি নির্দেশনামা ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধারের দায়িত্ব দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভবন ও স্থানটি সরকারের মালিকানায় আসে।
একই বছরের অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসক দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিসর নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। এ পরিসর উদ্যোগ নেয়, আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বীকৃতির। একই বছরের ২৫ অক্টোবর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠানের সময় সূচি নির্ধারণ হলেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্থগিত হয়। ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উদ্বোধন হয়। জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুর হক ফলক উন্মোচন করেন।
রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ ভাস্কর্য উন্মোচন করেন জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি প্রফেসর ড. সানজিদা খাতুন। খুলনায় মৃনালী দেবীর পৈতৃক ভিটায় রবীন্দ্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই মহৎ উদ্যোগের রূপকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হকের ভূমিকা এ অঞ্চলের মানুষ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। তার ভূমিকা ও অবদান স্মরণীয় করতে আয়োজকরা প্রতি বছরের ২৫ বৈশাখ অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানায়।
খুলনা গেজেট/এনএম

