বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম। জেলার আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে মঙ্গলবার (৫ মে) থেকে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও দেশীয় বৈশাখী আমসহ স্থানীয় জাতের আম। পর্যায়ক্রমে আগামী ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারে পাওয়া যাবে।
সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আমের কদর আছে দেশ ও বিদেশে। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম দেশের অন্য এলাকার তুলনায় আগে পরিপক্ব হয় এবং স্বাদেও অনন্য। ফলে আগে বাজারে ওঠার কারণে বেশি দামে বিক্রিও হয় এই আম। সাতক্ষীরার আমের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আগেই আম সংগ্রহের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরার আম সুস্বাদু, ঘ্রাণযুক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। কাজেই সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম শুধু বাংলাদেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বেশ জনপ্রিয়। যে কারণে প্রতি মৌসুমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ২০১৫ সাল থেকেই আমেরিকা ও ইউরোপে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে সাতক্ষীরার আম, যা জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের আমচাষি আবু সাঈদের বাগানের গাছ থেকে আম পেড়ে জেলায় আম সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলার আমচাষি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আমবাগান রয়েছে। চলতি বছর এখান থেকে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ, যার মধ্যে প্রায় ৭২ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আমচাষি আবু সাঈদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এবার গাছে ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া যাবে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলার আমচাষিরা লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি জাতের আম পরিপক্ব হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। আগেভাগে পাড়লে আমের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যায়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম আগে পরিপক্ব হয়। আগাম বাজারে ওঠার কারণে চাষিরা দামও বেশি পান।
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আমের কদর দেশ-বিদেশে রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম ইউরোপে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে, যা জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, সাতক্ষীরার আমের খ্যাতি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে। এই সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে জেলায় আম সংগ্রহের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সূচির আগে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ৭২ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। রপ্তানিযোগ্য আম নিশ্চিত করতে গুণগত মান রক্ষায় নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বিষয়ে জেলাব্যাপী কঠোর নজরদারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরার আমের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন একটি সময়সূচি প্রকাশ করে। গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মিসেস আফরোজা আখতার এই সূচি প্রকাশ করেন। সূচি অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও দেশীয় বৈশাখী আমসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে।

