মঙ্গলবার । ৫ই মে, ২০২৬ । ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা

গৌরাঙ্গ নন্দী

একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করি। ২০১১ সালের দিকে এক পিতা-অভিভাবক এসেছেন আমার কাছে। একটি সমস্যা থেকে তিনি উদ্ধার পেতে চান। আমি সাগ্রহে তাঁর কথা শুনতে চাই। তিনি বলেন, “তাঁর ছেলে সাংবাদিক হতে চায়, আমি তাঁকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারবো কী-না!” আমি তাঁর কাছে জানতে চাই ছেলেটির কি লেখাপড়া শেষ হয়েছে? তিনি না-সূচক মাথা দোলান। আমি বলি, “লেখাপড়া শেষ করুক। ছাত্রজীবন শেষে যদি সে সাংবাদিকতা করতে চায়, করবে; কিন্তু আমার পরামর্শ হচ্ছে, তাঁর এ পেশায় না আসাই ভালো।” তিনি খানিকটা হতাশ হন। আমতা আমতা করতে থাকেন। বলেন, “আসলে সে সাংবাদিকতা করবে না। চাকুরি করবে। মানে, এখন।” আমি তাঁকে বলি, “সাংবাদিকতা করবে না; মানে, এখন; এসব কী? পরিষ্কার করে বলুন।”

তিনি তখন বলেন, “যদি সাংবাদিকতার একটি কার্ড পাওয়া যেত, তাই।” আমি ক্ষুব্ধ হয়েই বলি, “সাংবাদিকতার কার্ড মানে, কার্ড হচ্ছে পরিচিতি পত্র। যিনি যে পেশায় থাকেন, সেই পেশার পরিচয়পত্র। আপনার ছেলে লেখাপড়া করে, তাঁর সাংবাদিকতার কার্ড দিয়ে কী হবে?” তিনি তখন পরিষ্কার করেন। বলেন, “তাঁর ছেলে একটি মটরসাইকেল কিনেছে। পুলিশ মটরসাইকেল আরোহীদের নানা কারণে নানা প্রশ্ন করেন। যদি একটি সাংবাদিকতার কার্ড থাকে, তাহলে পুলিশ আর তাঁকে কিছু বলবে না। ওই ছেলেটির বন্ধু একটি সাংবাদিকতার কার্ড জোগাড় করে রেহাই পেয়েছে। এখন সেও একটি কার্ড জোগাড়ে ব্যতিব্যস্ত; তাই তিনি আমার কাছে এসেছেন।” আমি ওই অভিভাবককে বলি, “আপনি পিতা হয়ে ছেলেটির অনৈতিক আবদারে সায় দিয়ে আমার কাছে সাংবাদিকতার কার্ড চাইতে এসেছেন? কেমন পিতা আপনি! এটিতো অন্যায়!” তখন তিনিও ক্ষুব্ধ হন। আমাকে বলেন, “না দিলে দেবেন না; কিন্তু জ্ঞান দেওয়ার দরকার নেই। এরকম হর-হামেশাই হচ্ছে। কার্ড পাওয়াও যায়। আপনি আমার পাড়ার, তাই আপনাকে বললাম।” ভদ্রলোক একেবারে রাগে গজগজ করতে বেরিয়ে যান।

এর একটাই অর্থ, তা হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশাটির মহান উৎকর্ষতা আজ অনেকখানি ম্লান হয়ে গিয়েছে। সাংবাদিকতা পেশাটি নানাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন করা হচ্ছে, তেমনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাহারাদার হিসেবে এই পেশাটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ সাংবাদিকতা এমন নয়; এই পেশাটির শুরুটাও এমন নয়।

ইউরোপে সাংবাদিকতার শুরু ও বিকাশ। যা আধুনিক রাষ্ট্রের সমসাময়িক। আধুনিক রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে এগোতে শুরু করে, পাশাপাশি সাংবাদিকতাও এগোয়। প্রকৃতপক্ষে শাসক বা নীতি প্রণেতাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া, তাদের কাজের সমালোচনা করার মধ্যে দিয়ে সাংবাদিকতার শুরু। অর্থাৎ শুরু থেকেই সাংবাদিকতায় একটি নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। আর বলাও হচ্ছে, সংবাদ হচ্ছে তাই, যা একটু ব্যতিক্রম, অস্বাভাবিক। স্বাভাবিকতা খবর নয়, অস্বাভাবিকতাই খবর। অবশ্য, শুরু হয়েছিল মুদ্রণ সাংবাদিকতা (প্রিন্ট র্জানালিজম) দিয়ে; সময়ের সাথে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে; এখন মুদ্রণ সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রচার বা ব্রডকাস্ট জার্নালিজম বিকশিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও আছে ইন্টারনেটভিত্তিক সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্ত সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা প্রভৃতি।

সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমকে ‘ফোর্থ স্টেট’ বলা হয়। কথাটির শুরুও সেই সাংবাদিকতার শুরুর পর্বে। ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ সংসদে দার্শনিক এডমুন্ড বার্ক এই কথাটির ব্যাখ্যা দেন। তিনি যুক্তরাজ্যে যাজক, জমিদার ও জনগণ -এ তিন শ্রেণির সামাজিক মর্যাদার পরে চতুর্থ আসনে সংবাদমাধ্যমকে বসান। তাঁর মতে, একে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র পরিপূর্ণ হতে পারে না। কারণ, শাসকগোষ্ঠীর কাজ জনগণকে সেবা করা; এই কাজে জনগণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া-ভাবনার স্বাধীন ও মুক্ত সমালোচনা হওয়া প্রয়োজন। এই সমালোচনার মাধ্যমে শাসকেরা নিজেদেরকে সংশোধিত করার সুযোগ পাবে এবং যা তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। সাধারণভাবে বললে, সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের পরিচালকদের, শাসকদের, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা।

এই ধারণাটি দেশে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বকীয় স্বীকৃতি হিসেবে উচ্চারিত হয়েছিল; আজও উচ্চারিত হয়। তবে এখন ধারণাটি অনেক বদলে গেছে। বলা হচ্ছে, আইন সভা, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের পরেই স্বতন্ত্র-স্বাধীন চতুর্থ বিভাগটি হচ্ছে গণমাধ্যম : সেই অর্থে ফোর্থ স্টেট। আবার এই মতামতেরও ভিন্নতা রয়েছে। তবে গণমাধ্যমের স্বকীয়তা-স্বাধীনতা নিয়ে ভিন্নমত নেই। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এর খানিকটা চর্চা হলেও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে এই ধারণার চর্চা করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এখনও হচ্ছেন। আবার আছে, নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা। রাষ্ট্রের মর্জিমতো সাংবাদিকতা। যা সাধারণত : কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোতে চোখে পড়ে।

আমাদের দেশে অর্থাৎ ইংরেজের অধীন ভারতবর্ষে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। তখন কলকাতা ছিল ভারতবর্ষের রাজধানী। সেখান থেকেই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার অনুপ্রেরণায় দেশের নানা অঞ্চল হতে পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার একটি হচ্ছে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী হতে কাঙাল হরিনাথের সম্পাদনায় গ্রামবার্তা সহায়িকা নামের পত্রিকা প্রকাশ। এতে তিনি কৃষকের দুর্দশার কথা লিখতেন। নীল চাষের বিরুদ্ধে লিখতেন। কৃষকের উন্নয়নে কী করা উচিত, তাই লিখতেন। তখন ছিল এগুলোই ইস্যু। আর এতে কাঙাল হরিনাথ ইংরেজ শাসকদের নিপীড়নের শিকার হন। তার পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া যায়।

পাকিস্তানি শাসনামলে আমাদের দেশে সংবাদপত্র তথা সাংবাদিকতা আপাত : অর্থে একটি মর্যাদা লাভ করেছিল। কারণ, সময়টি তখন ছিল জনগণের অনুকূলে। শাসকরা ছিল বিদেশি। দেশের মানুষ বুঝেছিল পাকিস্তানিরা বাঙালির ভালো চায় না। পাকিস্তানি শাসকেরা যা কিছু করছে, তা পাকিস্তানিদের স্বার্থ রক্ষায় করছে, ফলে শাসকদের প্রতি মানুষ ছিল রুষ্ট। আবার শাসকদের প্রতি এমন একটি নেতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে বা শাসকদের কার্যকলাপ জনসমক্ষে নিয়ে আসতে সংবাদপত্র বা সাংবাদিকতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। স্বাধীন বাংলাদেশে এই সাংবাদিকতার অবস্থান বদলে যায়, যা স্বাভাবিকও বটে। কারণ, এখন আমরাই আমাদের শাসক। এখন জনগণের মধ্যে বিভাজনটি হচ্ছে শাসক-শাসিত হিসেবে, ধনী-দরিদ্র হিসেবে, ব্যবসায়ী ক্রেতা হিসেবে। ফলে দুই বিপরীতধর্মী গোষ্ঠীর পারস্পরিক স্বার্থ এক হতে পারে না। আর আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালী হয়নি। পুঁজি তথা করপোরেট পুঁজি গঠনের কাল চলছে। এখনকার অর্থনীতি তার উড়ন্তকাল পর্ব অতিক্রম করছে। উড়োজাহাজ উড়তে যাওয়ার পূর্বক্ষণে যে শক্তি সঞ্চয়ের সময়টি, আমাদের দেশের বর্তমান অর্থনীতির অবস্থাটি তেমনি। আমাদের জাতীয় পুঁজি একটি পর্যায়ে এসেছে; যা আরও সংহত ও বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। পুঁজি গড়ে উঠছে, মানেই পুঁজিপতি একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। এই গোষ্ঠী সবকিছুই তাদের জন্যে ঢেলে সাজাতে চায়। এটাই স্বাভাবিকও। একজন বিপুল সম্পদশালী হচ্ছে দেখে অন্যেরা সম্পদশালী হওয়ার নেশায় বিভোর। এই সময়টিতে নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। যে যেভাবে পারো, সম্পদ অর্জন করো। সম্পদ অর্জনের নেশাই এখন বড় ও ভয়ানক নেশা। যা গোটা সমাজকে নেশাগ্রস্ত করে তুলেছে। এ কারণেই পুঁজিপতিদের মধ্যে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত বিরোধ প্রবল। তারা রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেদের কবজায় নিয়ে সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

সেই কারণেই সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার কালটি এখন খুবই খারাপ। এখন সংবাদপত্রের জন্যে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হয়। যার বিনিয়োগের সামর্থ্য আছে, তিনিই বিনিয়োগ করতে পারেন। আর বিনিয়োগকারীর ওই প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক নিতান্ত এক একজন কেরানি মাত্র। একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে যেমন ওই ব্যবসায়ীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা সকল কিছুর নিয়ামক এবং মুনাফার লক্ষ্যে সকল কর্ম-কৌশল চূড়ান্ত করা হয়, তেমনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও তাই। এই প্রতিষ্ঠানটি অধিকতর মুনাফার জন্যে না হলেও সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধিকারী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। আর সম্পদ অর্জনের নেশায় ছুটে চলা মধ্যবিত্ত-চাকুরিজীবী গোষ্ঠী তাদের সকল অনৈতিকতা আড়াল করতে সংবাদপত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে মরিয়া।

এ কারণে ভালো আয়ের চিকিৎসকও তার আয় নিরাপদ করতে আর কিছু না হলেও অন-লাইন সংবাদপত্রের মালিক-সম্পাদক সেজে বসছেন। এ উদাহরণ যেমন রাজধানী ঢাকা শহরে। তেমনি ছোট শহরে চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র সামর্থ্য ভেদে কেউ সম্পাদক অথবা সাংবাদিক সেজে বসছেন। কিছু সংবাদপত্রের মালিকেরা সাংবাদিকতার কার্ড বিক্রি করছেন। দেশে এখন অনেক সংবাদপত্র। দৈনিকের সংখ্যা সাড়ে তিনশ’র মতো। আছে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন প্রায় চল্লিশটির মতো। আছে শত শত অনলাইন পত্রিকা। সহজেই বলা যায়, এটি একটি ভালো সেক্টর। কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। কিন্তু তা নয়।

এখন একটি ঘটনা বলি, “আমি যখন ১৯৮২ সালে খুলনার সাংবাদিকতা জগতে চলাচল শুরু করি এবং ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে একজন পেশাজীবী সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি, তখন শুনতাম, খুলনার সংবাদপত্রগুলোর দশা ভালো নয়। সংবাদপত্রগুলো টিকবে না। অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। চার দশক, অর্থাৎ চল্লিশ বছর পরে এসেও শুনি, খুলনার সংবাদপত্রের অবস্থা ভালো না, কাগজগুলো চলতে পারছে না। মালিকরা সাংবাদিকদের বেতন দিতে পারছে না। হ্যাঁ, সাংবাদিকদের বেতন দিতে পারে না, দেয় না। আমার সাংবাদিকতা স্থানীয় সংবাদপত্রের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়ায় আমি স্থানীয় স্তরের সাংবাদিকদের কি পরিমাণ বেতন দেওয়া হয়; জানি। আমি নিজে, টিকে থাকার জন্যে, স্থানীয় কাগজের চাকুরি ছেড়ে এনজিওতে কাজ করেছি। আবার ঢাকাভিত্তিক সংবাদপত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হলে সাংবাদিকতায় ফিরেছি। পত্রিকাগুলো বেতন দিতে পারছে না বা দিচ্ছে না, এই অবস্থায় পত্রিকা বদল করেছি। এই পেশায় টিকে থাকার জন্যে অন্য কাজ করেছি। একটি কথা মনে রাখা দরকার, আমাদের দেশের ওয়েজবোর্ড শুধু সংবাদপত্রের জন্য প্রযোজ্য; প্রচারমাধ্যমের জন্য এখনও প্রযোজ্য নয়। অবশ্য, সরকারি মালিকানাধীন ’বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসস-এ’ এই ওয়েজবোর্ড অনুসরণ করা হয়।”

সংবাদপত্রের মালিক-প্রকাশকরা ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন না দিলেও সরকারি বর্ধিত হারে বিজ্ঞাপনের রেট ও সরকারের অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেন। এ কারণে তারা সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে যোগসাজশে পত্রিকার প্রচারসংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী দেখিয়ে থাকেন। সরকারের বড় দুর্বলতা হচ্ছে, সরকার সংবাদপত্রের মালিক-প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আইন কার্যকর করতে পারে না। এই অনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে সংবাদপত্র মালিকের সংখ্যা বাড়ে, তাদের বিত্ত-বৈভবও বাড়ে। শুধু ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়িত হয় না। অবশ্য, ঢাকা থেকে প্রকাশিত গুটিকয়েক কাগজ বাদে কোনো প্রতিষ্ঠান ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না। সাংবাদিকদের নতুন ওয়েজবোর্ডের দাবির মুখে সরকার মালিকপক্ষের মনোভাবের দিকে চেয়ে থাকেন। মালিকপক্ষ সম্মতি দিলেই তবে ওয়েজবোর্ড কমিটি গঠিত হবে। এখানে মালিকপক্ষের কাছেও সরকার অসহায়!

আর একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করি, জাপানে চারটি সংবাদপত্র এবং চারটি টেলিভিশন চ্যানেল। কারণ, সেখানে এই গণমাধ্যম পরিচালনা করতে হলে সরকারের নিয়মনীতি মেনে গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হয় এবং সাংবাদিকদের একটি নূন্যতম মান বজায় রাখতে হয়, সেখানে কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যেমন সাংবাদিকতা করা যায় না; আবার নীতিহীন সাংবাদিকতা করলেও সংশ্লিষ্টরা প্রচলিত আইনে সাজা পান।

আমাদের দেশে এখনও পত্রিকা বেরুচ্ছে, টেলিভিশনের সংখ্যাও বাড়ছে। শুধু সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটছে না। সাংবাদিক বেতন পাচ্ছেন না। মালিকের অনৈতিকতার ঢাল হিসেবে সংবাদকর্মী কাজ করছেন। সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকতা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করছে না। শুরু হয়েছে, রাজনৈতিক লেজুড়ভিত্তিক এক ধরনের সুবিধাবাদী সাংবাদিকতা। যে কারণে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হচ্ছে; মালিকপক্ষ পরিবর্তিত অবস্থায় নিজের সম্পদ রক্ষায় নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, ব্যবস্থাপনার বদল ঘটছে; আর সাংবাদিক চাকুরিচ্যুত হচ্ছেন।

আমরা যদি গণমাধ্যমকে ’ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি; তাহলে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রও তার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে না। বলাইবাহুল্য, এই ধারা বিকাশে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনাকে মেনে নিতে হবে; সরকারকে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে; পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুরক্ষাও দিতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন