শুক্রবার । ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩

পশু কামড় বা আঁচড় দিলে কী হয়, কখন টিকা নিতে হবে, জানালেন চিকিৎসক

লাইফ স্টাইল ডেস্ক

শখ কিংবা ভালোবাসা থেকে অনেকেই বাসা-বাড়িতে কুকুর ও বিড়াল পোষেন। এর বাইরে আশপাশেও অনেক কুকুর-বিড়াল দেখা যায়। এসব কুকুর-বিড়ালের অধিকাংশের শরীরেই র‌্যাবিস ভাইরাস রয়েছে। র‌্যাবিস আক্রান্ত পশুর কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কুকুর-বিড়াল কামড় বা আঁচড় দিলে আক্রান্ত জায়গায় দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান (কাপড় কাচার সাবান) এবং পানি ঢেলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো ধুয়ে নেয়া উচিত। এতে ক্ষত স্থানে থাকা ভাইরাসের বড় অংশ মারা যায়। তবে ক্ষত জায়গায় ব্যান্ডেজ বা সেলাই দেয়া যাবে না। আর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন করণীয় রয়েছে। সেসব ব্যাপারে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বরেছেন মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান। তাহলে এ বিষয়ে জেনে নেয়া যাক।

পশুর কামড়-আঁচড়ে কী হয়:
ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কুকুর হচ্ছে রেবিড অ্যানিমেল। বিড়াল, শিয়াল ও অন্যান্য হিংস্র বণ্যপ্রাণী এবং বাদুড়―সবই রেবিড অ্যানিমেল। এসব কামড়ালে বা আঁচড় দিলে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে র‌্যাবিস আক্রান্ত কুকুর কামড়ালে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কুকুর কামড় দিলেই আবার জলাতঙ্ক রোগ হবে, এমনটাও ভাবা যাবে না। কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের জীবাণু থাকতে হবে। র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুরের লালা থেকে মূলত ভাইরাসটি ছড়িয়ে থাকে। লাল যদি কামড়, আঁচড় বা শরীরের ক্ষত জায়গায় সংস্পর্শে আসে আর লালার মধ্যে র‌্যাবিস ভাইরাস থাকলে তবেই জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে, কুকুর যেহেতু রেবিড প্রাণী, এ জন্য তার মধ্যে র‌্যাবিস ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য কুকুর কামড়ালে ঝুঁকি না নিয়ে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা নেয়া উত্তম।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ:
এ ব্যাপারে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, জলাতঙ্কের ইনকিউবেশন পিরিয়ড থাকে; অর্থাৎ- কুকুরের কামড়ের জন্য র‌্যাবিস ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ বা উপসর্গ উপলব্ধি হতে যে সময় লাগে, তা এক বছর পর্যন্ত সময় হতে পারে। সাধারণভাবে এই সময়কাল ৩ মাস ধরা হয়। কখনো কখনো ইনকিউবেশন পিরিয়ড ক্ষতস্থান কোথায়, এর ওপর নির্ভর করে। কুকুরের কামড় বা আঁচগ ঘাড় বা মাথায় হলে ইনকিউবেশন পিরিয়ডকম এসে থাকে। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের যত কাছাকাছি কামড় বা আঁচড় হবে, তত এর ইনকিউবিশন পিরিয়ড হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি হবে।

জলাতঙ্ক রোগ হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, এর মধ্যে প্রথমেই দেখা দেয় হাইড্রোফোবিয়া, মানে পানি ভীতি। রোগী পানি খেতে পারেন না। এরপর অন্যান্য লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া শুরু করে। এরোফোবিয়া, এ ক্ষেত্রে রোগী বাতাস সহ্য করতে পারে না। আলো সহ্য করতে পারে না, অস্বাভাবিক আচরণ করে, মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা দেয় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থাও হয়। পশুর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যদি এসব লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তাকে জলাতঙ্ক বলা হয়। জলাতঙ্ক হলে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যুও হয়।

করণীয়:
পশু কামড়ালে বা আঁচড় দিলে যদি ক্ষত হয়, তাহলে সেখানে তাৎক্ষণিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, কামড় বা আঁচড় দেয়ার ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই টিকা নিতে হবে।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন