খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফিডিং কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরবরাহকৃত খাদ্য তালিকায় থাকা বনরুটির কোনোটি মেয়াদ উত্তীর্ণ, কোনটাতে আবার নেই মেয়াদের দিন তারিখ। আজ (২০ এপ্রিল) সরবরাহকৃত বনরুটি দুর্গন্ধ এবং প্যাকেটজাত অধিকাংশ বনরুটিতে ফাঙ্গাসের দেখা মিলেছে। সরবরাহকৃত ডিমের প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০টি নষ্ট মিলছে। সরবরাহকৃত কলা খাওয়ার অনুপযোগী, কোনটি কাঁচা শক্ত আবার কোনোটি নষ্ট। প্যাকেটজাত ইউএইচটি দুধের গুণগত মান নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। এমনকি তালিকায় থাকা বিস্কুটের দেখা মেলেনি আজও পর্যন্ত।

সরেজমিন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৮ নম্বর কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গেলে, বিদ্যালযের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ জানান, এমন অভিযোগ উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের।
পাবনা জেলার ওসাকা নামের এক এনজিও ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেলেও স্থানীয়ভাবে খাদ্য সরবরাহ করছেন বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাহদী হাসান। নিজেকে মাদ্রাসা শিক্ষক দাবি করে পণ্য সরবরাহে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার। সপ্তাহে ছয়দিন এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলার ১৬৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। তবে শুরু থেকে নানা অনিয়ম ও নিম্ন মানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে জনমনে চরম ক্ষোভ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাচ্চাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি অভিভাবকসহ স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খুলনা গেজেট/এনএম

