খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি বিলুপ্ত করেছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবি। এ সময় তার সঙ্গে আসা বিএনপির কিছু নেতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে নাজেহাল করেন। বিএনপি নেতারা ডা. বাবুলকে ফ্যাসিস্টের দোসরসহ বিভিন্ন গালাগাল করে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন। পরে সংসদ সদস্য কমিটি ভেঙে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি তৈরি হবে বলে জানান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের বিএনপি সমর্থিত সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সাল থেকে চোখের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণে কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালটি। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়। এক সময় দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতেন। পরবর্তীতে এটি দলীয়করণের মুখে পড়ে। ২০১৯ সালে হাসপাতালের সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যানসহ অধিকাংশ ট্রাস্টি সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মাইনুল ইসলাম। ১১ সদস্যের বোর্ডের ৫ জন বিএনপি সমর্থিত, দু’জন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছিলেন। এই বোর্ডের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, ‘সোমবার সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। সেইভাবে আমরা ফুল নিয়ে তৈরি ছিলাম। তিনি আমার কক্ষে এসে বসার কিছু সময় পরই তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে উদ্দেশ্যে করে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা মব তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমপি মহোদয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আমিও সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাকে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছি। এখন তিনিই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।’
হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ সবাই উত্তেজিত হয়ে পরিবেশ পাল্টে দিল। এরপর কমিটি ভেঙে দিয়েছেন।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ ৬ বছর। মুখের কথায় এভাবে কমিটি ভাঙা যায় কিনা এটা এমপি সাহেবই ভালো বলতে পারবেন।’
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলু রিজাইন করেছেন, এখন আমরা নতুন কমিটি করব। তাদের আমি বলেছি, আমি ঢাকায় যাব। পরশুদিন থেকে সংসদের অধিবেশন আছে। অধিবেশনের পরে এসে সবাইকে নিয়ে বসে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বিদের নিয়ে সুন্দরভাবে হাসপাতাল চালানো যায় সেইভাবে একটা কমিটি গঠন করা হবে। সবাইকে নিয়েই কমিটি করা হবে। ডা. বাবলু সাহেব যেহেতু থাকবেন না আর আমি যেহেতু এলাকার এমপি এ জন্য আপাতত চেয়ারম্যান। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করব।

