আইপিএলে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই গতি দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন তরুণ পেসার অশোক শর্মা। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) গুজরাট টাইটানস ও রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে তিনি ঘণ্টায় ১৫৪.২ কিলোমিটার গতির এক বিধ্বংসী ডেলিভারি করেন, যা এখন পর্যন্ত চলতি আইপিএল মৌসুমের দ্রুততম বল। তথ্য হিন্দুস্তান টাইমসের।
ডানহাতি এই পেসার ওই ম্যাচে চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। এই ১৫৪.২ কিমি গতির ডেলিভারিটি ছাড়িয়ে যায় আনরিখ নোর্কিয়ার ১৫১.৬ কিমি গতির বলকে। গত দুই আইপিএল মৌসুমের মধ্যেও এটিই দ্রুততম। একই সঙ্গে এই গতির সুবাদে আইপিএল ইতিহাসের দ্রুততম বলের তালিকায় যৌথভাবে নবম স্থানে উঠে এসেছেন অশোক, যেখানে তার সঙ্গে আছেন কাগিসো রাবাদা।
গুজরাট টাইটানসই অশোকের প্রথম আইপিএল দল নয়। কয়েক বছর আগে তিনি রাজস্থানের নেট বোলার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে ৫৫ লাখ রুপিতে দলে নিলেও তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। এরপর আবার রাজস্থান রয়্যালস তাকে ২০২৫ মেগা নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায়।
তবুও অভিষেকের জন্য আরও এক মৌসুম অপেক্ষা করতে হয় অশোককে। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ মৌসুমের আগে গুজরাট টাইটানস ৯০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনের ভক্ত অশোকের ৩১ মার্চ মুল্লানপুরে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে আইপিএল অভিষেক হয়। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি ১৪০–১৪৫ কিমি গতিতে ধারাবাহিকভাবে বল করেন এবং মাঝে মাঝে স্লোয়ার ডেলিভারিও করেন।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আসার জন্য অশোকের ভাইয়ের অবদান অনেক। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে অশোক জানিয়েছিলেন, ‘আমার বড় ভাই অক্ষয় জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতেন, কিন্তু আমার জন্য তিনি নিজের ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছেন। আমার বাবা একজন কৃষক। আমি যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি, তখন বাবা বলেন আমাদের মধ্যে একজনই ক্রিকেট খেলতে পারবে, কারণ দুজনের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তখন আমার ভাই ক্রিকেট ছেড়ে দেয়। তার জন্যই আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।’

