আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে খুলনা ও সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক এবং নদী সম্পদে সমৃদ্ধ। ব্যাপক পরিসরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৬০ এর দশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয় এই সব উপকূলীয় এলাকায়। এই ভেড়ি বা পোল্ডার বাঁধ প্রকল্প মূলত : নেদারল্যান্ডসের পোল্ডার (Polder) সিস্টেম মডেলের অনুসরণে তৈরি করা হয়েছিল। পোল্ডার (Polder) একটি ডাচ (Dutch) শব্দ, যার অর্থ বন্যা নিরোধের জন্য নির্মিত মাটির দীর্ঘ বাঁধ (ডাইক) দ্বারা বেষ্টিত এলাকা। নেদ্যারল্যান্ডস একটি নিম্নভূমি দেশ, যেখানে সমুদ্রের পানি ঠেকাতে এবং জমি পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ, ডাইক ও পাম্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ১৯৬০ এর দশকে East Pakistan Water and Power Development Authorit (বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড) উপকূলীয় অঞ্চলে এই পোল্ডার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ছিল লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ করা, কৃষি জমি রক্ষা করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে নদীর পাশে বাঁধ (Embankment) তৈরি করা হয় এবং স্লুইস গেটের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি নেদারল্যান্ডস-এ সফল হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো : খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে নদীতে প্রচুর পলি থাকে, পোল্ডার করার ফলে পলি নদীর ভিতরে জমে নদী ভরাট হতে থাকে। কিন্তু পোল্ডার তৈরির পূর্বে জোয়ারে পানি নদীর আশেপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ত। ভাটার পানি নেমে যাওয়ার সময় পলি ঐ বিস্তীর্ণ এলাকায় জমে থাকত। ফলে নদীতে আর পলি জমা হতো না। এতে নদী তার নাব্যতা হারাত না। অপরদিকে পোল্ডারের কারণে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও নদীর মৃত্যু শুরু হয়। এই পোল্ডার এলাকাগুলোতেই পরবর্তীতে চিংড়ি চাষের জন্য বেড়িবাঁধ তৈরি হয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় চালু হয় ভেড়ি সংস্কৃতি। যার ফলে সমস্যা আরও তীব্র হতে থাকে।
নেদারল্যান্ডসের পোল্ডার সিস্টেমের অনুকরণে বেড়ি বা পোল্ডার বাঁধ প্রকল্প তৈরি হলেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও নদী ব্যবস্থার পার্থক্যের কারণে এই মডেল পুরোপুরি সফল হয়নি এবং বর্তমানে এটি পরিবেশ ও নদীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং এই প্রশ্নটা একেবারেই স্বাভাবিক যে এই ভেড়ি বাঁধ কি সত্যিই টেকসই (Suatainable) নাকি এটি পরিবেশ ও নদীর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর?
বাংলাপিডিয়া অনুসারে বেড়িবাঁধ (Embankment) মাটি অথবা শিলা দ্বারা নির্মিত উঁচু পৃষ্ঠবিশিষ্ট প্রাচীর সদৃশ স্থাপনা। বন্যার পানি ধারণ ও প্রতিরোধ করা অথবা সড়ক, রেলপথ, খাল ইত্যাদি নির্মাণে এরূপ স্থাপনার প্রয়োজন হয়। নিম্নভূমি অঞ্চলে বন্যা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নদী তীর এবং তীরভূমি থেকে কিছুটা দূরে বন্যার পানি ধরে রাখার জন্য নির্মিত বেড়িবাঁধকে কান্দা বা জলস্রোত প্রতিরোধী বাঁধও বলা হয়। ইংরেজিতে যাকে বলে লেভি (Levee) বা ডাইক (Dyke)। এই ধারণের বাঁধের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ ও নির্গমনের ব্যবস্থা থাকতে পারে আবার নাও পারে। এই উপমহাদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বেড়িবাঁধ নির্মাণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সুলতানি শাসনামলে (১২১৩-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দ)। সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইয়াজ খিলজী তাঁর রাজধানী লখনৌতিকে বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য কয়েকটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। মুঘল সম্রাটগণ ও বিভিন্ন বড় বড় নদ-নদীর গতিপথে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। মুর্শিদকুলি ক্ষার শাসনামলে (১৭০৪-১৭১৭) নির্মিত হয় কুমিলা গোমতি বাঁধ। বাংলাদেশে সমুদ্র উপকূলবর্তী বেড়িবাঁধ সমূহ নির্মাণ শুরু হয় সপ্তদশ শতকের শুরুতেই। জমিদারদের কর্তৃত্বাধীন এসব উদ্যোগ ছিল মূলত : বেসরকারি। ব্যাপক পরিসরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে ১৯৬০ এর দশকে।
সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্প (সিইপি) বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় জেলাসমূহ এই প্রকল্পভুক্ত। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্প বা সিইপি। বাঁধ নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এই প্রকল্পে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় স্লুইস গেট (জলকপাট) দ্বারা। সেই সঙ্গে পানি অপসারণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাও এখানে গৃহীত হয়েছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে দুই পর্বে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথম পর্বে প্রকল্পভুক্ত ছিল ৯২টি পোল্ডার নির্মাণ। যার মাধ্যমে ১০ লক্ষ হেক্টর ভূমি প্রকল্প সুবিধার আওতায় আসে। দ্বিতীয় পর্বে ১৬টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়। যার মাধ্যমে ৪ লক্ষ হেক্টর ভূমি প্রকল্পভুক্ত হয়।
বেড়িবাঁধ জোয়ার পবন থেকে ভূমিকে রক্ষা করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। অপরদিকে এ সকল বাঁধ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যা উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
এটা অনস্বীকার্য যে বেড়িবাঁধ স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতিশীলতা সঞ্চার করেছে। কিন্তু এই বেড়িবাঁধ কারণেই আবার নদীর স্বাভাবিক গতিপথের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই নদীশাসনের কারণে জোয়ার-ভাটার গতিপথের পরিবর্তন হচ্ছে যা অপরদিকে স্লুইস গেটের পানি অপসারণ পথে পলি জমার ক্ষেত্রে ও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সর্বাপেক্ষা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে। এ সব এলাকার নদী গুলোতে উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত নদীবাহিত পলি অধিক মাত্রায় সঞ্চিত হচ্ছে। ফলে এলাকার নিম্নভূমি বা বিভিন্ন পোল্ডারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পলি জমার কারণে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে। (বাকি অংশ আগামীকাল)
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে, খুলনা বিভাগে বর্তমানে ১৩৮টি নদী চিহ্নিত রয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৩৭টি নদী চরম অস্তিত্ব সংকটে এবং ২০টির বেশি নদী প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং জল প্রবাহ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যৌথভাবে ২০২৪ সালের শেষে খুলনা বিভাগের আটটি জেলায় নদীভিত্তিক এক জরিপ পরিচালনা করে। তাদের জরিপ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য সংকটাপন্ন নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে শোলমারী, চুনকুড়ি, রুপসা, ভদ্রা, ময়ূর, হামকুড়া, পশুর, মুক্তেশ্বরী, হরিহর, ইছামতি, গড়াই, কালিগঙ্গা, কপোতাক্ষ, মধুমতী, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেতনা, আঠারো বেকি, খোলপেটুয়া, ঘ্যাংড়াই, শিবশাহ, লাবণ্যবতী, চুনা প্রভূতি।
এছাড়া গড়াই, কপোতাক্ষ, মধুমতি, ইছামতি, চিত্রা ও শিবসা নদীর প্রবাহ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বলা যায়, বর্ষাকাল ব্যতীত অন্য সময়-এ সকল নদী পানি শূন্য হয়ে থাকে। বাপার জরিপ অনুযায়ী খুলনা জেলার ভদ্রা, রুপসা, শিবসা, ময়ূর ও কপোতাক্ষ নদীর অর্ধেক প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। ময়ূর নদীর ৪০% দখল হয়ে গেছে। সাতক্ষীরা জেলার চুনকুড়ি খোলপেটুয়া, ইছামতি নদীর পানি এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত থাকেনা বললেই চলে। বাগেরহাটের পশুর নদীর লবণাক্ততা বেড়েছে ৩৫% এবং মারাদী ও ভলেশ্বর নদী প্রায় হারিয়ে গেছে। এছাড়াও পশুর, বলেশ্বর ও শিবসা নদীর দূষণও লবণাক্ততা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নৌপথ যোগাযোগ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। খুলনা অঞ্চলের ৪৮টি অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে সচল আছে মাত্র ১১টি। অনেক প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়েছে। ফলে চিংড়ি, গজাল, পাবদা ও বেলে মাছের ঘাটতি প্রায় ৭০%। পুঁটি, টেংরা, শোলও আজ বিলুপ্তির পথে।
বেড়িবাঁধ সংস্কৃতির কারণেই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকায় চিংড়ি চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটে। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে যা উক্ত এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটিয়েছে। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনে দিয়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে। তাই অনেকেই এটিকে উন্নয়নের একটি উপায় হিসাবে দেখে থাকেন। তবে এই উন্নয়ন কতটা টেকসই তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক রয়েছে। কারণ বেড়িবাঁধ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নদীর নাব্যতা কমে যায়। এক সময় নদী মৃত প্রায় হয়ে পড়ে যা স্থানীয়ভাবে ‘নদী মারা যাওয়া’ নামে পরিচিত। এটা শুধু নদীর জন্য নয় আশেপাশের পরিবেশ ও মানুষের জীবনের জন্যও মারাত্মক হুমকি। এছাড়াও নদীর প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তোলে। তা ছাড়া লবণাক্ত পানি জমিতে প্রবেশ করে ফসল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাছাড়া বেড়িবাঁধের কারণে জীব বৈচিত্র্য ও হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে সুন্দরবন-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব প্রকট। এর ফলে অনেক মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সর্বোপরি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জীবিকার তাগিদে আজ শহরমুখী হচ্ছে। যার ফলে শহরের অর্থনীতির উপরও চাপ বাড়ছে।
এখন প্রশ্ন হলো-সমাধান কী? বেড়িবাঁধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও এটি অবশ্যই নিয়ন্ত্রিতও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা। নদীকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিলে পলি স্বাভাবিকভাবে সরে যায় এবং নদী তার নাব্যতা বজায় রাখতে পারে।
বেড়িবাঁধের কারণে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের পরিবেশ ও নদীর যে ক্ষতি হচ্ছে তা কমাতে কার্যকর কিছু প্রতিকার গ্রহণ করা জরুরি। বাস্তব সম্মত কিছু সমাধান নিম্নরূপ : –
১। টেকসই চিংড়ি চাষ পদ্ধতি চালু করা-
– লবণাক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ করে চাষ করতে হবে।
– রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
– সেমি ইনটেনসিভ/ইনটেনসিভ চিংড়ি চাষ করতে হবে।
– মিশ্র চাষ (চিংড়ির সাথে মাছ/ধান) করা যেতে পারে।
২। চিংড়ি জোন নির্ধারণ করা
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের যে সমস্ত এলাকা চিংড়ি চাষ প্রবণ এলাকা এ সমস্ত এলাকাকে চিংড়ি জোন ঘোষণা করা। তাহলে পোল্ডার তথা বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট নিয়ে যে বেড়িবাঁধ সংস্কৃতি চালু হয়েছে সেটা অবলুপ্ত হবে। এখানে বসবাসকারী মানুষদের কে অন্যত্র আবাসস্থল করে দিতে হবে। চিংড়ি চাষও লাভজনক হবে।
৩। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা : –
– অপ্রয়োজনীয় বেড়িবাঁধ অপসারণ করতে হবে।
– নদীর সাথে খালও জলপথ পুনঃসংযোগ করতে হবে।
– ড্রেজিং কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এরপরও নদীর স্রোতোধারা চলমান রাখার জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে ড্রেজিং করা।
৪। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার : –
– সুন্দরবন ও এর আশেপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা। চিংড়ি জোন ঘোষণা করলে এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
– ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো, যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে আসে।
– জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি।
৫। কৃষকদের বিকল্প জীবিকা প্রদান : –
– কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই কৃষিতে অভ্যস্ত করা।
– ক্ষুদ্র ব্যাবসা ও অন্যান্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।
– সরকারি সহায়তা ও ঋণ সুবিধা প্রদান।
৬। আইন ও নীতিমালা শক্তিশালী করা : –
– অবৈধ বেড়িবাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা।
– পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ।
– স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয় বাড়ানো।
৭। সচেতনতা বৃদ্ধি : –
– স্থানীয় জনগণকে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।
– পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
– স্কুল, কলেজ ও কমিউনিটিতে সচেতনতা কর্মসূচি চালু।
সবশেষে বলা যায়, বেড়িবাঁধ বর্তমান অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয় যদি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সরকার, স্থানীয় জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের একসাথে কাজ করতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নই হতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের এতমাত্র পথ।
লেখক : বিসিএস (মৎস্য) সিনিয়র সহকারী পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
খুলনা গেজেট/এনএম

