শনিবার । ২৮শে মার্চ, ২০২৬ । ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২

ভারতের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার পুরো ম্যাচটাই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের গর্জন সেই উত্তেজনা যেন বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ, কর্নার কিক থেকে দারুণ এক হেডে বাংলাদেশি দর্শকদের স্তব্ধ করে ভারতকে লিড এনে দেন বিশাল যাদব।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে গ্যালারিতে প্রাণ ফেরান আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। রোনান সুলিভানের দারুণ এক কর্নার কিক থেকে জোরাল শটে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান তিনি। এরপর জালের দেখা পায়নি আর কোনো দল। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

শনিবার (২৮ মার্চ) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৭তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ভারতের সঙ্গে ড্র করায় সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানের পিছিয়ে থাকায় রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত।

রানার্স আপ হওয়ায় শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভুটানের।

ম্যাচের শুরুতে গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আক্রমণের ধার বাড়ালেও ৩৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান, স্ট্রেচারে করে বাইরে নেওয়া হয় তাকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টাচলাইনের কাছে ভারতের এক খেলোয়াড়কে শক্ত ট্যাকল ঘিরে দুই দলের ডাগআউটে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই তা তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছানোর উপক্রম হয় দুই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারি ভারতের সাপোর্ট স্টাফ মহেশ গাউলিকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর বাংলাদেশের ইংলিশ হেড কোচ মার্ক কক্সকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ডাগআউটে এই অস্থিরতার পরও ছন্দ হারায়নি বাংলাদেশ। বরং যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে দারুণ এক আক্রমণ থেকে আসে সমতার গোল। রোনান সুলিভানের দারুণ এক কর্নার কিক থেকে বদলি হিসেবে নামা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম চমৎকার ভলিতে বল জালে জড়ান। তার সেই গোলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

বিরতির পর ১-১ সমতা নিয়ে মাঠে নেমে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুমনকে নামানো হয় বদলি হিসেবে। দুই দলই উইং ব্যবহার করে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে গোল আসছিল না।

৬৪ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান গোলরক্ষক মাহিন। ভারতের ওমং দোদুম বক্সের ভেতরে ফাঁকা সুযোগ পেলেও তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মাহিন, ফলে কর্নার আদায় করে ভারত। এর কিছুক্ষণ পর, ৬৮ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতের এক খেলোয়াড়।

শেষ দিকে ম্যাচের সমীকরণ বদলে দেয় কৌশল। ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকায় ভারত রক্ষণভাগে বেশি মনোযোগ দেয়। বিপরীতে, শীর্ষস্থান দখলের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন