‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি সরকারকে হুমকি দিলেন?’ এই প্রশ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের। তিনি বুঝতে পারছেন না নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে বিসিবিকে কেন বিজ্ঞপ্তি দিতে হলো। দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অধীন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের যেখানে বিসিবির কার্যালয়, সেটিও এনএসির সম্পদ। এনএসসির থেকে বরাদ্দ নিয়ে স্টেডিয়ামগুলোতে খেলা পরিচালনা করে বিসিবি। এমনকি বিদেশে সিরিজ খেলতে গেলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। দেশে আন্তর্জাতিক সিরিজ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। বিসিবি সভাপতির তো এসব অজানা নয়। এর পরও এনএসসির বিরুদ্ধে বিসিবির অবস্থানকে ক্রিকেট সংগঠকরা ধৃষ্টতা হিসেবে দেখেন।
এনএসসি কর্তৃক নির্বাচন ইস্যুতে তদন্ত করা নিয়ে সোমবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনএসসি সম্প্রতি একটি গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে গত নির্বাচনের বিষয়ে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। বিসিবি বলেছে, ‘বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং নিজস্ব গঠনতন্ত্র মেনে নির্বাচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তারা নিয়মিত সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’ এই সময়ে এনএসসির তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বিসিবির স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে দাবি বিসিবির। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্য হিসেবে গ্লোবাল গভর্ন্যান্স কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হয় বিসিবি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের কাজে সরকারি হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।’
এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ আইসিসির ‘গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স’ নীতিমালার আওতায় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আমিনুল ইসলাম আইসিসিতে যোগাযোগ করে এনএসিসির তদন্ত ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বিসিবির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেননি বুলবুল। কর্মী পর্যায়ে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে জোট বেঁধে টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করায় বুলবুলের কর্মকাণ্ডে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ আইসিসি। তাই নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে– এমন কোনো তথ্য বেরিয়ে এলে বুলবুলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে আইসিসি।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা নিয়ে মোহামেডান ক্লাব ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বসেও দেশের ক্রিকেটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন তিনি। আইসিসির জুজু দেখিয়ে লাভ হবে না। বুলবুল ক্রিকেট খেলেছেন ঠিকই সংগঠন পরিচালনার নিয়মকানুন বোঝেন না। তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো একটি দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’ গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইসিসিতে লিখিত দিয়েছিলেন দেশের ক্রিকেট সংগঠকদের একাংশ। সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও হয়েছে। বুলবুলের চিঠি, জেলা প্রশাসকদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপি সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করেন সংগঠকরা।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও একই কথা বলছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে বিগত নির্বাচনের (বিসিবি) সময় ডিসিরা একবার কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরে বর্তমান সভাপতি বুলবুল ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আবার কাউন্সিলর পাঠিয়েছেন। এটি তো একদম দৃশ্যমান সত্য ঘটনা। এটি নিয়ে বিগত স্বৈরাচারের মতো যদি কথা বলেন যে আমরা যেটি করেছি সঠিক করেছি, সেটি আসলে সমীচীন হবে না। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিসিবি কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের মতে, বুলবুল হলেন ক্রিকেটের ‘বর্গি’। তাঁর কর্মকাণ্ড দেশদ্রোহিতার শামিল মনে করেন তিনি। নির্বাচনে অনিয়ম করেছেন, বিশ্বকাপ দল না পাঠানো এবং বিসিবিকে নিষিদ্ধ করার অপচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন তিনি। এনএসসির ২০১৮ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দেশের ক্রীড়ার স্বার্থে যে কোনো ফেডারেশন পুনর্গঠন করতে পারে।
খুলনা গেজেট/এমএম

