বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে একটি মাদ্রাসা ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। গতকাল বুধবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার ৪তলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওসমান আলী।
ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৭-৮জন লোক কাজে বাঁধা দেয়। তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে মোঃ হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং গালিগালাজ করে ও হুমকি-ধামকি দেয়। এসময় প্রতিবাদ করলে কোথাও কোন অভিযোগ বা মামলা করলে খুন-জখম ও মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘দরপত্রের সকল নিয়ম মেনে আমরা কাজ করছিলাম। কিন্তু মোঃ হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন চাঁদা চেয়েছিল, দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের লোকজনকে হুমকি-ধামকীও দিয়েছি। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির ছেলে ইস্রাফিলও আমাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে চেয়েছে, আমি নেইনি। স্বচ্ছভাবে কাজ হচ্ছে না। অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে, কাজে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তবে শুনেছি স্থানীয় কিছু লোকজন চাঁদা চাওয়ার কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এক কোটি ৩৭ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকায় গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার ৪তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

