সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
নিহত ছাত্রীর পিতা প্রাণনাথ দাসের বরাতে সাতক্ষীরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে পরিবারের চার সদস্য (স্বামী-স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে) একসাথে রাতের খাবার শেষে নিজ-নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রাণনাথ দাস লক্ষ্য করেন, মেয়ের কক্ষ ভেতর থেকে লক করা রয়েছে—যা তার মেয়ের স্বাভাবিক অভ্যাস ছিল না। এতে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান, ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঝুলছে। পরে তাকে নামিয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এসআই সোহেল রানা জানান, রবিবার দুপুরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিহত ছাত্রীর নিকটাত্মীয় সুমন মুখার্জী বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সে এবার উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সাথে শেষ করে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছিল। এমন একটি সম্ভাবনাময় জীবনের আকস্মিক অবসান আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
মানবাধিকার ও নারী অধিকারকর্মীরাও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জোসনা দত্ত বলেন, এ ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক সময় দায় এড়াতে দ্রুত আত্মহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই প্রতিটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না।
এলাকাবাসীর অনেকেই জানান, মেয়েটি শান্ত-স্বভাবের ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিল। হঠাৎ এমন ঘটনার পর পরিবার ও প্রতিবেশীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
খুলনা গেজেট / এম এন এস

