সরকারি চাকরিতে শতভাগ কোটার দাবিতে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের সারাদেশে মবসন্ত্রাস, নাশকতা এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহিমুল, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান, জয় ও ওয়াসিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই চত্বরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইইই বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সরকার ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে। কমিটির এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সরকার পাঁচ মাস সময় নিয়ে সকল নথিপত্র ও যৌক্তিকতা গভীরভাবে পর্যালোচনা শেষে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, সুপারিশ অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য আংশিকভাবে প্রবেশের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য শতাংশের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে। যদিও ১০ম গ্রেডে এখনো কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল হয়নি, তবুও দেশের প্রকৌশল খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের এই ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সরকার ১০ম গ্রেডে ১০০ শতাংশ ডিপ্লোমা কোটা বিলুপ্ত করেনি; বরং উভয় পক্ষের মধ্যে ন্যূনতম ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দুঃখজনকভাবে সরকারের এই সুপারিশের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ১৫ দিন আগে সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা এই অস্থিতিশীলতার ইন্ধনের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সম্পৃক্ত।
শেষে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই— সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কুচক্রী মহল যদি নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে সারাদেশের প্রকৌশলীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করবে।

