বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

মোংলায় নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত : ফিরে যাচ্ছে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা

মোংলা প্রতিনিধি

মোংলায় সুন্দরবন পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের ধর্মঘট আরও তীব্রতর হয়েছে। সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌপরিবহণ অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছে মালিকপক্ষ। টানা দু’দিন জালিবোটসহ নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন তারা।

এর আগে গত রবিবার মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিহবন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। এর প্রতিবাদে গত পরশু সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে জালিবোট মালিকদের সংগঠন মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালিবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌপরিবহণ অধিদপ্তর (খুলনা)।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করি। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০ জন পর্যটক যাতায়াত করে। আমাদের সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা ট্রেড লাইসেন্স করেছি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি। এখন হঠাৎ করে নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে। যেখানে প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।

ঈশ্বরদীর পাবনা থেকে ঘুরকে আসা সোহান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা আবু হাসান বলেন, মেয়ের শখ পূরণ করতে সুন্দরবনের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ। তাই সুন্দরবনে যেতে না পেরে ফিরে যাচ্ছি।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, ট্রলার মালিকদের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে পর্যটক নিয়ে কোনো নৌযান বা পর্যটক এখানে আসেনি।

নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা এর বেশি পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী সব নৌযানকে নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কোস্টগার্ড ও নৌপরিবহণ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন