শুক্রবার । ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩

শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

গেজেট প্রতিবেদন

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করায় অভিযুক্ত আকবর আলীকে বিএনপির সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহীর দূর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্বাবিদ্যালয় কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও একজন শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় রাজশাহী জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে। নানা বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

হামলায় কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, নারী প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ কলেজের আরও দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন।

আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, কলেজে ওই সময় ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্র বিবেচনায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন প্রশাসন। এরই মধ্যে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, জয়নগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ব্রহ্মপুর গ্রামের বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আফাজ আলী, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদ আলী, জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আলী, ৪নং ওয়ার্ড দাওকান্দি বিএনপির সভাপতি এজদার আলী, জয়নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রুস্তম আলী, ছাত্রদল নেতা জামিনুর ইসলাম জয়সহ স্থানীয় ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৪০ থেকে ৫০ নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি সরকারি আদেশে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার কাছে বিভিন্ন সময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। সর্বশেষ চাঁদা না দেওয়ার কারণে তার ওপর হামলা হয় বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইতেন, মূলত চাঁদার দাবিই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি।

বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, কলেজের আগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার অভিযোগ, শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন