চা বিক্রেতার সাথে খরিদ্দারের ঝগড়া মিটাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র নিহত

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় চা বিক্রেতার সাথে খরিদ্দারের ঝগড়া মিটাতে গিয়ে খরিদ্দারবেশী অজ্ঞাত দূর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো.জাকারিয়া খান (১৯) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের পশু হসপাতালের পাশে একটি চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।

নিহত কলেজ ছাত্র মো. জাকারিয়া খান (১৯) সাতক্ষীরা পৌর শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারীর মালিক আলহাজ্ব মো. আব্দুর গফুর খানের ছেলে। জাকারিয়া খান সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

নিহতের ফুফাতো ভাই শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জাকারিয়া খান রাতে শহরের পশু হসপাতালের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এসময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই চায়ের দোকানদারের সাথে কয়েকজন যুবকের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে অজ্ঞাত যুবকরা চা বিক্রেতার ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি খারাপ দেখে জাকারিয়া চা বিক্রেতাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে যান। এসময় অজ্ঞাত ওই যুবকদের মধ্যে একজন জাকারিয়ার বুকে ও পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় দোকানদার ও পথচারী দ্রুত জাকারিয়াকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শোভন মল্লিক জানান, আহত ওই যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে তাকে আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। তার বুকে ও পেটে ছরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।

কলেজ ছাত্র নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) পুলিশ পরির্দশক তদন্ত মো. শাহীদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত সেটি ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে আসামিদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে জানান তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন