শুক্রবার । ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

কলারোয়ায় পুলিশ-ডাকাত গোলাগুলি, ৩ জনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোটার মোড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে ডাকাত সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন ডাকাত সদস্যের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রিমাণ্ড শেষে মঙ্গলবার বিকালে বিচারক হাকিম মহিদুল ইসলামের কাছে হুমায়ুন কবীর, বিচারক হাকিম রাকিবুল ইসলামের কাছে শেখ শহীদুজ্জামান প্রিন্স ও বিচারিক হাকিম সালাউদ্দিনের কাছে শহীদুল ইসলাম পৃথকভাবে এ জবানবন্দি প্রদান করেন ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ৫ মার্চ রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা যশোর সড়কের কলারোয়ার কোটার মোড়ে পরিবহনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডাকাত সদস্য মিজানুর রহমান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি প্রাইভেটকার, একটি নতুন বিদেশী পিস্তল , দুই রাউণ্ড গুলি, দুটি চাপাতি ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।

এ ঘটনায় ৬ মার্চ কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক অনিল মুখার্জী বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত সাতক্ষীরা শহরের মধ্যকাটিয়া এলাকার শেখ আব্দুল হামিদের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শেখ শাহীদুজ্জামান প্রিন্স (২৮), যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার হাজির আলী গ্রামের বশির আহম্মেদ এর ছেলে হুমায়ুন কবির(৩৭), যশোর জেলা সদরের মোল্ল্যাপাড়া গ্রামের ফজর আলী উকিলের ছেলে শহীদুল ইসলাম(৬০), একই গ্রামের ধলা ম্য়িার ছেলে মিজানুর রহমান(৫০), যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আবুল কালাম (৫৫), একই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের (৩০) নামসহ যশোরের শার্শা উপজেলার সেতাই গ্রামের আব্দুল গণি বিশ্বাসের ছেলে কবীর বিশ্বাস (৪৬) ও সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়ার শেখ মোশারফ হোসেনের ছেলে শেখ শফিউল্লাহ ওরফে মনিরুল ওরফে গোল্ড মনিকে (৪৭) পলাতক দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলারোয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক বাবুল আক্তার ৭ মার্চ গ্রেপ্তারকৃত শেখ শাহীদুজ্জামান প্রিন্স, হুমায়ুন কবীর, শহীদুল ইসলাম, আবুল কালাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিন করে রিমাণ্ড আবেদন করেন। ১২ মার্চ বিচারক হাকিম রাকিবুল ইসলাম শুনানী শেষে পাঁচ আসামির প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। এক দিন আগেই মঙ্গলবার পাঁচ আসামীকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিচারক হাকিম মহিদুল ইসলামের কাছে হুমায়ুন কবীর, বিচারিক হাকিম রাকিবুল ইসলামের কাছে শেখ শহীদুজ্জামান প্রিন্স ও বিচারিক হাকিম সালাউদ্দিনের কাছে শহীদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ হাসান কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক অনিল মুখার্জীর দায়েরকৃত ৬ মার্চ এর অস্ত্র আইনের মামলার রিমাণ্ড ফেরৎ তিন আসামী মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন