টানা দু’দিনের ভারী বর্ষণে নড়াইল জেলার তিনটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শত শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোথাও রান্না বন্ধ, কোথাও বিশুদ্ধ পানির সংকট, আবার কোথাও আসবাবপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় ভরাট, দখল এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বুধবার দুপুরে নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপুর, আলাদাতপুর, মহিষখোলা, ভাদুলিডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, ভওয়াখালী, বাহিরডাঙ্গা ও বরাশুলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শতাধিক ঘরবাড়িতে পানি জমে আছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতরে হাঁটুপানি জমেছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ এবং পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
ভাদুলিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, “পর্যাপ্ত নালা নেই, যেগুলো আছে সেগুলোরও অনেকগুলো অচল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।”
দুর্গাপুর এলাকার মিজানুর রহমান নামে এক বাসিন্দা বলেন, “রাতভর বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। আসবাবপত্র ‘সরিয়ে রাখতে হয়েছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় রান্না করাও সম্ভব হয়নি।”
এ বিষয়ে নড়াইল পৌর প্রশাসক মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হয়। এবারও বিভিন্ন স্থানে পানি অপসারণে কর্মীরা কাজ করছেন।
লোহাগড়া পৌরসভাতেও একই চিত্র। দুই দিনের টানা বর্ষণে লোহাগড়া পৌর শহরের লক্ষ্মীপাশা, রাজুপুর, খলিশাখালী, গোপীনাথপুর, জয়পুর, ব্যাপারীপাড়া, মদিনাপাড়া, কলেজপাড়া, সরকারপাড়া, আলা মুন্সির মোড়, সরদারপাড়া, পোদ্দারপাড়া, মোচড়া ও গন্ধবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগড়া পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “তাৎক্ষণিকভাবে পানি অপসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
খুলনা গেজেট/এএজে

