খুলনায় জলাবদ্ধতা নিরাসনে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি প্রধান এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরাসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক সুপারিশ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সুপারিশে হামকুড়াসহ তিনটি খাল খননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলায় ৯ হাজার ৭৬৪ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। ফলে রবি মৌসুমে বোরো উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বছরের মধ্য জুলাইতে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আউশ, গ্রীষ্মকালীন সবজি, মরিচ, তরমুজ, রোপা আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৩৫ হেক্টর জমির এক কোটি ৬২ হাজার টাকা মূল্যের সবজি বিনষ্ট হয়। এ বছরের মে মাসে ১২১ মিলিমিটার, জুন মাসে ২১৯ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ৭৩২ মিলিমিটার, আগস্ট মাসে ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে তিনটি লঘুচাপসহ দুটি নিম্নচাপে পরিণত হয়। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরাসনে রাজনীতিকরা সোচ্চার হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা জলাবদ্ধতা নিরাসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয় ৮ দফা সুপারিশ পাঠিয়েছে। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে হামকুড়া থেকে ময়ূর নদ পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ কিঃমি, হড়হড়িয়া থেকে মধু গ্রাম পর্যন্ত ৪ কিঃমি, কাটেঙ্গা থেকে টোলনার নারায়ণ খাল ২ কিঃমি, বরুণা বিল থেকে হোগলাখাটি পর্যন্ত ২৫ কিঃমি, রুদাঘরা থেকে মধুগ্রাম ৩ কিঃমি, বিল তাওয়ালিয়া থেকে কেওড়াতলা পর্যন্ত ৮০০ মিটার ও আদিরখাল ৫ দশমিক ৫ কিঃমি পুনঃখনন। সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম গত মাসে এ সুপারিশ পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছরের বৃষ্টির পরিমাণ বেশি, চাঁদখালী খাল ভরাট পাইকগাছা স্লুইচগেটগুলোর অব্যবস্থাপনা, খাস খালগুলো উন্মুক্ত না থাকা, নিচু জমিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ কম, আঠারোবেকি নদীর পানি প্রবাহ কম, অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের এবং নরনিয়া বিলের গভীরতা বেশি থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী এ প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন খুলনাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণ, ১৯৬০ এর দশকে তৎকালীন ওয়াপদার স্থায়ী বাধ নির্মাণ বা পোল্ডার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে এখানকার নদীগুলো প্লাবন ভূমির সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদীর জোয়ারে আসা পলি বিল ভূমিতে না যেতে পেরে তা নদীগর্ভে অবক্ষেপিত হয়ে নদীগুলো মরতে শুরু করে। বিপরীতে বিল বা নিচু ভূমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে শুরু করে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা, বীজ ও কালভার্ট নির্মাণ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। জলাবদ্ধতা এসব কর্মকাণ্ডের কুফল। যা দিন দিন আরও বাড়বে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন