টার্গেট কিলিংয়ের শিকার দু’জনই

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাড়ির পাশে মানুষ সাধারণত নিরাপদে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণা বদলে গেছে। গত প্রায় ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনার দুই উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশে দু’জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার পর থেকে এই দু’টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে মুখ খুলছে না।

গত রবিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল করিম ওরফে নাসিম। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ সময়ের মধ্যে তারা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত সোমবার রাতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ফরমাইশখানায় তেলের ব্যবসার ভাগবাটরা নিয়ে একটি পক্ষের সাথে দ্বন্দ্ব এবং নগরীর দৌলতপুর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের সাথে গত কয়েকদিন আগে দ্বন্দ্ব বাঁধে নাসিমের। এ দু’টি কারণকে সামনে নিয়ে তারা তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে গত সোমবার রূপসা উপজেলার দুর্জনীমহল শহিদের মোড়ে বাড়ি থেকে ৫০ গজ দুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় বাসশ্রমিক আক্তার ঢালী। ঘটনার পরের দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে কথা হয় নিহতের ছোটভাই আতাউল ঢালীর সাথে। তিনি বলেন, বড়ভাই উপজেলার সেনেরবাজারের বাসস্ট্যান্ডে কলারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক মাস ২০ দিন আগে দুর্জনীমহল শহিদের মোড় লিটুর চায়ের দোকানের সামনে তার বড় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওইদিনও মর্গে থেকে আমি তার লাশ নিয়েছিলাম। এখন মর্গ থেকে ভাইয়ের লাশ আমাকে নিতে হবে। জয় ঢালী ও আক্তার ঢালীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি জানে না। তবে তার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় এলাকায় কোনো লোডশেডিং ছিল না। ঘটনাস্থলের পাশের বিদ্যুৎ পোলে থাকা লাইটের সংযোগ অজ্ঞাত কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্ধের কারণটাও জানি না। তবে ছেলে হত্যার পর অব্যাহত হুমকির সম্মুখীন হতে হয় তাকে (আক্তার ঢালী)। এ ঘটনায় তিনি রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছিলেন।

আক্তার ঢালীর মৃত্যুর পর সেই জিডি একটি কপি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসে। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনের বাজারে বাসস্ট্যাণ্ডে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি। ওই সময় চারজন ব্যক্তি তাকে ডেকে নেয়। এ সময় তারা ছেলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এমনকি জীবননাশের হুমকিও প্রদান করে।

জিডির বিষয়ে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার জাহিদ বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর তিনি থানায় জিডি করেছিলেন। জিডি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর আমাদের কাছে আসেনি।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর বড় ছেলে জয় ঢালীকে গলা কেটে করে হত্যা করা হয়। ছেলে হত্যা মামলার বাদী ছিলেন মা। এই হত্যা মামলায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি রূপসা থানায় একটি জিডি করেন। মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমনটি বলে আক্তার ঢালী উল্লেখ করেছেন। আপাতত এ কারণকে সামনে রেখে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

দিঘলিয়ার নাসিম হত্যার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিও টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের তথ্য আমাদের কাছে আসছে, সেগুলো আমার যাচাই-বাছাই করছি। তার সাথে কার কার দ্বন্দ্ব ছিল সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন