আগামীর লাভ-ক্ষতি দেখে খুলনার খাল খনন প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি ইশতেহারে খাল খনন প্রাধান্য পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর খাল খননের আবেদনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। সরকারের শপথ গ্রহণের পর খাল খনন কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা পায় জ্বালানি সংকট ও মৌসুমের আগে অতিবৃষ্টিতে। আগামীতে লাভ-ক্ষতি দেখে খুলনা জেলায় খাল খনন প্রকল্প হাতে নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মার্চে বিএডিসি (সেচ), পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ত্রাণ-পুনর্বাসন অধিদপ্তর খাল খননের উদ্যোগ নেয়। এসব সরকারি সংস্থা একই খালের তালিকা জমা দেয়। এতে নতুন সরকার সিদ্ধান্ত হীনতায় পড়ে। নতুন সরকারের অভিজ্ঞতা না থাকায় যত্রতত্র খাল খনন শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে মার্চ-এপ্রিল জুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। বেড়ে যায় জ্বালানির মূল্য। বিএডিসি প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা চেয়ে জেলা প্রশাসনে ধরনা দেয়। ড্রেজারগুলো তেলের সংকটে পড়ে খননকাজ এগোতে পারেনি। তারপর খনন শুরু হলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে বড় ধাক্কা খায়। অনেক খালে তিনমাসের টানা বৃষ্টিতে পলি জমা পড়েছে। এর মধ্যে একটি বড় উদাহরণ ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের কাটাখাল। সুইচ গেটের সামনে পলি জমা পড়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এ অঞ্চলে নিম্নচাপ হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী শুষ্ক মৌসুমের জন্য ত্রাণ পুনর্বাসন অধিদপ্তর খুলনা ঝেলায় ১৬টি খাল খননের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে, ফুলতলা উপজেলার সায়েলের খাল, দফাদার খাল, দাকোপ উপজেলার আনন্দনগর খাল, রূপসা উপজেলার শিয়ালী আঠারোবেকী নদী থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত খাল, বটিয়াঘাটা উপজেলার কাটিয়ানাংলা, কয়রা উপজেলার বামিয়া মাথাভাঙা, আগরগারিয়া, দিঘলিয়া উপজেলার মাথাভাঙা, ডুমুরিয়া উপজেলার রুপরামপুর মাড়ুয়া খাল থেকে আমভিটে, ক্ষুদে খাল।

খুলনা জেলার ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম বলেছেন, বিভিন্ন সংস্থার পাঠানো খালের তালিকা সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্দেশনা দেবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাভ-ক্ষতি দেখে খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন পাবে। দ্রুত পলি পড়বে এমন খাল অনুমোদন পাবে না। এবারের খাল খনন প্রকল্প বর্ষার আগেই শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন