সুন্দরবনে যেতে পাশ নিয়েছে ৩ হাজার নৌকা, কয়রার জেলে-বাওয়ালিদের চলছে প্রস্তুতি

সাইফুল ইসলাম, কয়রা

উপকূলীয় কয়রা উপজেলার হাজারো মানুষের কাছে এটি জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন সুন্দরবন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, নৌকা নির্মাণ ও মেরামত, জাল তৈরি, বরফ সরবরাহ, পরিবহন এবং মাছ-কাঁকড়ার কেনাবেচাসহ বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুন্দরবনকে ঘিরেই পরিচালিত হয়।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন। বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে বনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার জেলে-বাওয়ালিরা। দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর বন খোলার খবরে বননির্ভর পরিবারগুলোতে ফিরেছে স্বস্তি। তবে জীবিকার প্রত্যাশার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে দস্যুদের চাঁদাবাজি, নৌকা থামিয়ে হয়রানি ও অপহরণের আশঙ্কার অভিযোগ করছেন স্থানীয় বনজীবীরা।

কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫২৬ জন। সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য কয়রায় প্রায় ৩ হাজার নৌকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সরকারি নিবন্ধনের বাইরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা আরও বেশি।

সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে কয়রার বিভিন্ন নদী ঘাট ও জেলেপল্লিতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও পুরোনো নৌকায় আলকাতরা লাগানো হচ্ছে, কোথাও ছেঁড়া জাল মেরামত করা হচ্ছে। কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি ট্রলারের ইঞ্জিনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জেলেরা।

কয়রা সদর এলাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে পাশাপাশি থাকা দুটি নৌকা তৈরির কারখানায়ও চলছে ব্যস্ততা। সরেজমিন দেখা যায়, কারিগরদের কেউ কাঠ কাটছেন, কেউ নৌকার কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ তক্তা বসিয়ে নৌকাকে দিচ্ছেন শেষ রূপ। দুটি কারখানায় প্রায় ২২ জন শ্রমিক নৌকা নির্মাণের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত।

তিন মাস কর্মহীন, সামনে ঋণ পরিশোধের চাপ। বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। চলতি বছরও তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোকে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

জেলেদের ভাষ্য, বনে যেতে না পারায় অনেক পরিবার ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছে। ফলে বন খোলার দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।

বন খোলার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন করে দস্যু আতঙ্কের কথা বলছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে সশস্ত্র দস্যুদের তৎপরতার আশঙ্কা রয়েছে। চাঁদা না দিলে নৌকা থামিয়ে মারধর, অপহরণ কিংবা জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ভয় করছেন তাঁরা।

কয়রার জেলে-বাওয়ালিদের দাবি, সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ ও খালে নিয়মিত কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং বন বিভাগের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন