মাদক পরিবহনে নারীদের ব্যবহার করছে কারবারিরা। শরীরের বিশেষ অঙ্গে মাদকের চালান ঢুকিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে গন্তব্যে। এ জন্য তাদের দেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ফলে অনেক নির্ভরযোগ্য সংবাদ ছাড়া তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি খুলনার মিয়াপাড়া থেকে তিন হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবার চালনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা নারী ছিলেন। তারা এ পন্থা অবলম্বন করে মাদকের চালান কক্সবাজার থেকে খুলনায় নিয়ে আসেন।
শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে র্যাবের জালে গ্রেপ্তার হন জেলা যুবদলের সদস্য নাসির উদ্দিন সেন্টু। তার সাথে গ্রেপ্তার হন তার স্ত্রী ও দুইজন রোহিঙ্গা নারী মারিয়াম ও আয়শা। রবিবার দুপুরের পর তাদের সদর থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় কথা হয় এক রোহিঙ্গা নারীর সাথে। তিনি জানালেন এমনই তথ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোহিঙ্গা নারী জানান, গোলেমুনেচ্ছা (ছদ্ম নাম) ক্যাম্পের এক নারী সর্দার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান তাদের শরীরের বিশেষ অঙ্গে ঢুকিয়ে কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠিয়ে দেয়। তারা কনডমের মাধ্যমে শরীরের বিশেষ অঙ্গে করে মাদকদ্রব্য খুলনায় নিয়ে আসে। পথে অনেক স্থানে পুলিশ চেক করেছে কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। প্রশাসনের সদস্যরা তাদের সন্দেহও করেনি। কারণ যারা চেক করেছেন তারা এ কৌশল সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। এই বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন করতে ওই নারী তাদের দু’জনকে ত্রিশ হাজার টাকা চুক্তিতে এখানে পাঠায়।
তারা বলেন, রাত ১টার দিকে খুলনায় বাস থেকে নেমেছি। এসময় ভাইয়ার লোকজন আমাদের তার বাড়িতে নিয়ে আসে। এটাই আমাদের প্রথম খুলনায় আসা।
ক্যাম্প থেকে কীভাবে বের হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে সবকিছু হয়। ঢাকায় অহরহ নারী এবং পুরুষ রোহিঙ্গারা মাদকের চালান পরিবহণ করছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

