উপকূলীয় অঞ্চল পাইকগাছা ও কয়রাকে সব ধরনের আধুনিক সুবিধাসহ বাসযোগ্য উন্নত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় পাইকগাছাস্থ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (লোনা পানি কেন্দ্র) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক রাজনৈতিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এই সভায় সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত এই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের জন্য ইতিমধ্যে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প জাতীয় সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে আমরা একটি অত্যাধুনিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর দেশজুড়ে লুটপাট, গুম ও খুনের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত খারাপ সময় অতিবাহিত হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের পতনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাসযোগ্য ও বৈষম্যহীন দেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্বাচনের সময় আমরা মাদক, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করার যে ওয়াদা করেছিলাম, তার ধারাবাহিক কার্যক্রম এখন দেশজুড়ে দৃশ্যমান।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অধিকার মূল্যায়নে বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিগত ৫০ বছরেও যা কেউ করেনি, এই জনকল্যাণমুখী সরকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সরকারের এই উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী বার্তাগুলো প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ফাহমিদা হক বলেন, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। জনবান্ধব সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা নানা পাঁয়তারা করছে, তাদের প্রতিহত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্রে শুধু চুনোপুঁটিদের ধরলেই হবে না, এর পেছনে থাকা মূল হোতা ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে বলেন, যারা সরকারি খাল ও সম্পত্তি অবৈধভাবে বেদখল করে রেখেছেন, তারা অনতিবিলম্বে সেগুলো ছেড়ে দিন। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে একে একে সব খাল খননের আওতায় আনতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি আমার দলের হলেও কোনো ছাড় পাবে না। এই অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে, যার কিছু নমুনা ইতিমধ্যে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।
পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ড. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল এবং জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, মনিরুজ্জামান বেল্টু, সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, তুষার কান্তি মণ্ডল, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুজ্জামান মুকুল, সদস্য সচিব ইমরান সরদারসহ পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক পাইকগাছা ডাকবাংলো চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
খুলনা গেজেট/এএজে

