গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে খুলনার কাঁচাবাজারে বেড়েছে সবজির দাম। মানভেদে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। থেমে নেই মুরগির দাম। মাছের বাজারে তেমন বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। শুক্রবার সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি থাকলেও বাজারে অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
সন্ধ্যা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিহালি কলা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। বর্ষাকাল হওয়ায় বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। লাল শাকের কেজি ৬০ টাকা, ডাটাশাক ৪০ টাকা, মানভেদে পোটলের দাম প্রতিকেজিতে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ টাকা, ভেন্ডি ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিকেজি কুশি ৫০ টাকা, ঝাল ১৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, প্রতিকেজি আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মিস্ত্রীপাড়া বাজারের মনির হোসেন বলেন, “গত ৭ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে বাজারে সবজির কিছুটা সংকট রয়েছে। তাই কিছু সবজির দাম ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে দাম কমে যাবে।”
ব্যবসায়ী শহীদুল বলেন, “প্রতিবছর বৃষ্টির সময় দাম বেড়ে যায়। বৃষ্টি কমে গেলে দামও কমে যায়।”
সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, “অতি বৃষ্টির কারণে কোথাও কোনো মাল পাওয়া যাচ্ছেনা। এ কারণে প্রতিটি খাদ্য পণ্যের দাম বেড়েছে।”
এদিকে থেমে নেই ব্রয়লার, লেয়ার, কর্ক ও সোনালি মুরগির দাম। বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা খাদ্য পণ্যের তালিকায় থাকা এ পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ী হুসাইন বলেন, “গত ৭ দিন বিভিন্ন ফার্ম থেকে কোনো মুরগী আসছে না। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকলে সে পণ্যের দাম বাড়তি থাকে।” তিনি প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। অনুরূপভাবে লেয়ার ৩৬০ টাকা, কর্ক ২৯০ টাকা এবং সোনালি ২৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।
গরুর মাংস ও মাছের বাজারে তেমন একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতিকেজি মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীর। বাজারে চিংড়ি মাছ ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, পারশে ৭০০ টাকা ও রুই মাছ মানভেদের ২৮০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা ও পাঙাশ মাছ ১৮০-১৯০ টাকা, ইলিশ মাছ সাইজ ভেদে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় ক্ষোভ ঝাড়লেন ক্রেতারা। মির্জাপুর রোডের বাসিন্দা মৃন্ময় সাহা বলেন, “বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যবসায়ীরা। আসল ব্যাপারটার কেউ কোনো খোঁজ নেয়না।” সরকারকে তিনি বাজার ব্যবস্থার প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আলিমুর রেজা বলেন, “আয় কম ব্যয় বেশি। আয়ের সাথে সংগতি রেখে বর্তমান সময়ে চলা খুব কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

