রবিবার । ২৮শে জুন, ২০২৬ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩
১০ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

অস্বাভাবিকভাবে ফুলেছে শিশুটির মাথা, দুশ্চিন্তায় দিশেহারা পরিবার

জাহিদুল সাগর

অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের মারপিটের শিকার শিশু ইসমাইলের মাথা। চোখ ও মুখের জমাট বাঁধা রক্ত ও গলার ফোলা কমলেও মাথা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছে শিশুটির পরিবার। এলাকার মানুষের নানান গুজব ও অপপ্রচারে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তারা।

এদিকে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তার কোনো সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।

পড়া না পারায় গত ১৭ জুন রাতে মাদ্রাসার ভেতরে শিশু ইসমাইলকে বেদম মারপিট করেন শিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমান। নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামের ওই মাদ্রাসাটির অবস্থান। মারপিটে শিশুটির মস্তিস্ক, চোখসহ বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেধে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত ২১ জুন খুলনা গেজেটের অনলাইনে এবং পরদিন ছাপা পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। শিশুটির ছবি ও নির্যাতনের মাত্রা দেখে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদটি প্রচার হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর বাবা।

গতকাল শনিবার দুপুরে শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার বলেন, একমাত্র ছেলেকে দ্বীনি এলেম শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করি। প্রতিমাসে ৩ দিন ছুটি পেত মাদ্রাসা থেকে। ছুটির সময় বাড়ি আসলে দুরন্তপনার শেষ ছিল না। আজ আমার সেই ছেলে সব সময় খাটে শুয়ে থাকে। মায়ের সঙ্গে গল্প ও আর লুডু খেলে দিন পার করে। ৯ পারা কুরআন মুখস্ত হয়েছে ইসমাইলের। প্রায়ই সময় তাকে মারধর করত। পড়া না পারার কারণে গত ১৭ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ওপর নির্যাতন চালায় মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, ছেলের চোখের রক্ত জমাট ও গলা ফোলাভাব কমে গেছে। কিš মাথার বাম কানের ওপর অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে রয়েছে। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৫ দিন পরে যাওয়ার কথা বলেছেন। চামড়া নিচে রক্ত জমার কারণে মাথা ফুলেছে বলে চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন।

ইসমাইলের বাবা বলেন, ঘটনার দিন কাছে টাকা না থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রহমানের ভাই মাসুদের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ৫ হাজার টাকা নেন। চিকিৎসার জন্য পরে তারা আরও ২০ হাজার টাকা দেয়। এনিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটনা করছেন। তারা বলছেন, টাকার বিনিময়ে ছেলে হামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমি একা মানুষ কারও বিরুদ্ধে মামলা করলে সেই মামলার পেছনে আমাকে দৌঁড়াতে হবে। কিন্তু আমার সে সময় কোথায়?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যোগাযোগ করছেন। আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং একটি কাগজে স্বাক্ষরও নিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চান। এ ধরণের হামলা যেন আর কোনো মাদ্রাসার ছাত্রের ওপর আর কোনো দিন না ঘটে।

এদিকে শনিবার দুপুর ১টার দিকে মাদ্রাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসার মূল ফটক বন্ধ। সেখানে কেউ নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলতাফ বলেন, মামলার পরপর আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান পলাতক রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন