বৃহস্পতিবার । ২৫শে জুন, ২০২৬ । ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩

পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীতে তীব্র অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জগদ্বিখ্যাত রসায়ন বিজ্ঞানী পিসি রায়ের জন্মস্থান পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দু’পক্ষ প্রায় মুখোমুখি। দু’জন ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। স্বৈরশাসনের অবসানের পর দখলদারিত্ব, আধিপত্য ও অনৈতিক সুবিধার বিষয়ে দলের তরুণ এক নেতা মুখ খুললে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। প্রতিবাদী এই নেতা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। জাতীয় নির্বাচনে এ সংগঠন বরাবরই প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৯১, ২০০১ ও সর্বশেষ ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে এ সংগঠনের প্রার্থী বিজয়ী হয়। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা দলের কাছে ঘাঁটি ও শক্ত অবস্থানের বলে পরিচিত। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। একই সাথে ছাত্র শিবিরও মূল দলের অনুসারী হয়। শেখ হাসিনার জামানার ১৭ বছর অনেক নেতাকর্মী বাড়ি ছাড়া, কারাবরণ ও দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ধরনা দেয়। এ ত্যাগের কারণে স্থানীয় ভোটারদের অনুকম্পা ছিল দলটির প্রতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় ১৭ বছর সময়টা তিনি তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। অনেকে সময় গ্রেপ্তার এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। কর্মীদের ত্যাগের কারণে ভোটাররা এ দলের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার অবসানের পর রাড়ুলী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা রামরাজত্ব কায়েম করে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, চিংড়ির খামার, স্থাবর সম্পত্তি দখলে নেওয়ার জন্য এ দলের কর্মীরা মরিয়া হয়ে ওঠে। এতে বাঁধ সাধেন এসএম মহিবুল্লাহ নামক এই ইউনিয়নের এক তরুণ নেতা। তিনি দলের সিনিয়র পর্যায়ের দখলদারিত্ব ও অনৈতিক সুবিধাদির বিষয়ে মুখ খোলেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। এ তরুণ নেতা রাড়ুলী গ্রামের মোঃ আজিজুর রহমান শেখের ছেলে। ২০১০ সালে ইসলামী আন্দোলন বেগবান করতে তিনি ছাত্র শিবিরের কাফেলায় শরিক হন। বিভিন্ন সময় এ ছাত্র সংগঠনের রাড়ুলী ইউনিয়ন শাখা, পাইকগাছা পৌর ও উপজেলা শাখায় সভাপতি হিসেবে এবং খুলনা জেলা (দক্ষিণ) শিক্ষা ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২২ সালে অভিভাবক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এ সংগঠনের উপজেলা যুব বিভাগের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এতে উপজেলার অনেক নেতার তিনি চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। এ বছরের প্রথম দিকে দল এই ইউনিয়নে আব্দুল মোমিন সানাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে একটি অংশ বিদ্রোহ করে। তরুণ এ নেতা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা আমীর মুহাঃ ইমরান হুসাইন সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ এর ২ নাম্বার উপধারার ক, ঘ লঙ্ঘন করায় গত ২৭ মে তরুণ এ নেতার রুকনিয়াত সাময়িক বাতিল করেন। দাপ্তরিক চিঠিতে জেলা প্রধান এ যুব নেতার বিরুদ্ধে দায়িত্বশীলদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ১৮ জুন এক বিবৃতিতে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করায় সংগঠনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত হওয়ায় তার রুকনিয়াত সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কার আদেশ সানন্দে গ্রহণ করে এসকে মহিবুল্লাহ নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে প্রার্থী নির্বাচনে মাঠে নেমেছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। বলেন, ‘নির্বাচনি ফলাফলই প্রমাণ করবে জনগণের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি।’

জনগণ এ ইউনিয়নে তাদের প্রতিনিধিকে বেছে নিতে রায় দেবে বলে তার বিশ্বাস। প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেছেন, ‘এটি উপজেলার রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়। দলের সমর্থিত প্রার্থীকে সময় উপযোগী নয় এবং বহিষ্কারের বিপক্ষে এই ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন অবস্থান নিয়েছে। তারা অনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের নাম বলতে শুরু করেছে। সময় আসলে বিদ্রোহ করার আসল কারণ জাতির কাছে তুলে ধরবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন