বৃহস্পতিবার । ১১ই জুন, ২০২৬ । ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দিঘলিয়ার ছয় ইউনিয়নে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী ২৬, জামায়াতের চূড়ান্ত

একরামুল হোসেন লিপু

ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন, তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। ঘোষিত হয়নি তফসিল। তারপরও থেমে নেই প্রার্থীদের তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে দিঘলিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীরা রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে।

মহানগরীর মেট্রো এলাকার দুটি আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন নিয়ে দিঘলিয়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন ২৬ জন। সবাই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে মনোনয়ন না পেলে অনেকেই প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন।

দিঘলিয়া সদর : এ ইউনিয়নে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৫ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা নাজমুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম রেজা, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি জাসেদ কবির জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি খান মহম্মদ উল্লাহ ও বিএনপি সমর্থিত মোঃ আকিদুল শরীফ।

সেনহাটী : এ ইউনিয়নের সম্ভাব্য তিনজন হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শেখ মোসলেম উদ্দিন ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক গাজী মোঃ এনামুল হাচান মাসুম।

বারাকপুর : এ ইউনিয়নে পাঁচ জনের নাম আলোচিত হচ্ছে। এরা হলেন- জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইকবাল হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী জাকির হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি শরীফ ইমামুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোল্লা হুমায়ুন কবির।

গাজীরহাট : গাজীরহাট ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী পাঁচ জন হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মরহুম সৈয়দ শহীদুল্লাহ’র ছোট ভাই সৈয়দ নাসির উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মুকিত মীর, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাদশা গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শেখ ফারুক হোসেন।

যোগীপোল : যোগীপোল ইউনিয়নে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মীর কায়ছেদ আলী, খানজাহান আলী থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, খানজাহান আলী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া, খানজাহান আলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-’সভাপতি শেখ হুমায়ূন কবির বিল্লাল, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মোঃ মামুন শেখ।

আড়ংঘাটা : এ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এ পর্যন্ত দৌলতপুর ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ মতলবুর রহমান মিতুলের নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।

যোগীপোল ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস বলেন, “ফ্যাসিস্ট হটাও প্রতিটা আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলাম। দু’টি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা খেয়েছি। ছয়বার কারাবরণ করেছি। শতভাগ আশাবাদী দুঃসময়ে আমার অবদানের কথা বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।”

একই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, “জীবন, যৌবন, সব দলের জন্য ব্যয় করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। সেক্ষেত্রে দল যদি মনোনয়ন দেয় আলহামদুলিল্লাহ। না দিলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।”

দিঘলিয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ সেলিম রেজা বলেন, “যতটুকু জেনেছি দলের সবুজ সংকেত আমার প্রতি রয়েছে। এ কারণে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছি।’

সেনহাটী ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ মোসলেমউদ্দিন বলেন, ‘শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।’

একই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে নেতা-কর্মী, সমর্থকদের সাহস জুগিয়েছি। শতভাগ আশাবাদী এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন