সোমবার । ১৮ই মে, ২০২৬ । ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঈদের আগে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আযহা মানেই মাংসের ছড়াছড়ি। আর সেই মাংস রান্নার জন্য প্রয়োজন মসলার। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার। যদিও পাইকারি বাজারে বা আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা পর্যায়ে তদারকির অভাবে বিক্রেতারা দাম বাড়াচ্ছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।

খুলনা নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২০০ টাকায়। একইভাবে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ টাকা, গোলমরিচ কোথাও কোথাও এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা এবং লবঙ্গ এক হাজার ৩৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পাড়া মহল্লার দোকানে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব মসলা।

বড় বাজারের মশলা ব্যবসায়ী ও রাজ্জাক স্টোরের মালিকের ছেলে শেখ তানভীর হোসেন জানান, রমজানের ঈদ থেকে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ওই সময় এলাচের দাম ছিল ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তার থেকে ভালো মানের এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২০০ টাকায়। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন সব কিছুর দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে গরম মশলার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।

নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের বাসু স্টোরের মালিকের ছোট ভাই তাপস বলেন, ‘এমনিতে মসলার দাম বেশি। কোরবানির ঈদ এলে দাম আরও বেড়ে যায়। এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও দারুচিনির দাম ব্যাপক বেড়েছে।’

একই বাজারের সেজান স্টোরের মালিক মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের সর্বত্র গরম মশলা সরবরাহ করা হয়। সেখানকার গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমাণ মশলা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে বাজারে পণ্য ঢুকবে। তখন এর প্রকৃত দাম জানা যাবে।’

দোলখোলা ইসলামপুর মোড় হক স্টোরের মালিক মোঃ ইয়াছিন বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে বেড়েছে সকল ধরনের মশলার দাম। বর্তমানে দাম আরও বাড়তি। পাইকারি বিক্রেতারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করেন আমাদের সে হিসেবেই বিক্রি করতে হয়।’

রূপসার মাহবুবুর রহমান বলেন, শুধু ঈদের বাজার নয়, পূর্বে থেকেই মশলার বাজার চড়া। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজারে পর্যাপ্ত মশলার আমদানি হয়েছে এবার। কিন্তু আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মশলার বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে রয়েছে তদারকির অভাব। তদারকি থাকলে এত দাম বাড়ত না।’

মিস্ত্রিপাড়া বাজারে গোলাম ছামদানি সাকিব জানান, ‘কোরবানি এলে মশলার দাম বৃদ্ধি পায়। দাম কমানোর ব্যাপারে সরকারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন