বৃহস্পতিবার । ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের হোতা সিদ্দিক গ্রেপ্তারে স্বস্তি, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিক (৫২) গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার রিমান্ডে দিচ্ছে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে চোরাই মোটর সাইকেল। গেলো বছরের গত ৮ সেপ্টেম্বর নগরীর লবণচরা থানা পুলিশের হাতে আটক হয় সে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চিংড়াখালী গ্রামে। বক্কর সিদ্দিক এর বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবু বক্কর সিদ্দিককে ঘিরে পূর্বের বেশ কিছু ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলা শহরে আবু বককর সিদ্দিক এর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে শতাধিক গাড়ি চোর চক্রের বিশাল নেটওয়ার্ক। তবে খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা শহর থেকে ২০টির অধিক মোটরসাইকেল চুরির কথা সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বটিয়াঘাটা উপজেলার এসিল্যান্ড অফিসের সামনে থেকে সাংবাদিক এইচ এম সাগর (হিরামন) এর একটি হিরো স্পিন্ডার (১০০ সিসি) মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় লবণচরা থানা পুলিশ তাকে আটক হয়। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে দিনে দুপুরে একটি মটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোটর সাইকেলের মালিক বানিয়াখামার এলাকার মোঃ আফরোজ।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, ‘মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের টিম সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। আশা করি খুব শিঘ্রই উদ্ধার অভিযানে সফল হবো। তিনি আরও বলেন, গত মাসে ৪টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বারবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনক কারণে ছাড় পেয়ে যাওয়ায় চোর সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছে আবু বক্কর সিদ্দিককে ঘিরে অতীতের ঘটনা গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই বাবলা দাস বলেন, মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের প্রধান বক্কর সিদ্দিকের মামলাটি আমি দেখভাল করছি। বুধবার তার বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা শুনানি ছিল। নতুন করে তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত ১০টির বেশি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চোরাই গাড়িগুলো উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরাদুল ইসলাম বলেন, আসামি বক্কর সিদ্দিক যশোর কারাগারে থাকার কারণে তার শুনানি করা সম্ভব হয়নি, তবে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। থানায় এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন