সোমবার । ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ । ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

তেরখাদায় সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকানঘর দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ৮টি দোকান দখল করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বোরহান তরফদারের পিতা ময়েন উদ্দিন তরফদার ১৯৬৭ সালে ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের ভবন করার জন্য ইছামতি মৌজার আরএস ৩নং খতিয়ানের ২১৭২/২৩০৬ দাগের ০.৩৩ শতক জমি বিনা টাকায় দলিল করে দেন। বাকি ১১ শতক ২৩০৬ দাগের জমিটা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাকা রাস্তার পশ্চিমে চিত্রা নদীর পাশে অবস্থিত যা আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে।

উক্তি সম্পত্তি নদীভাঙন কবলিত হয়ে খাস খতিয়ানে চলে যায়। পরে জমির ওয়ারিশগণ লাখ লাখ টাকা খরচ করে পাইলিং দিয়ে নদী ভাঙন রোধ করে ৮টি দোকান ঘর নির্মাণ করে। এরমধ্যে মুনজুর শেখ ও গোলাম কিবরিয়া ১৫/১৬ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। হঠাৎ তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি দ্বীন ইসলাম তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দোকান ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এছাড়া ওই জায়গায় বে-আইনিভাবে মার্কেট নির্মাণ করে নিজ নামে ভাড়া দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সমাজসেবক এস. এম. এমদাদুল হক বলেন, ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদ শুরু করতে যখন জায়গার প্রয়োজন হয়েছিল তখন আমরা এলাকাবাসী একতাবদ্ধ হয়ে ময়েন উদ্দিন তরফদারকে বুঝিয়ে বলি। তখন তিনি কোনো টাকা ছাড়া ৩৩ শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদকে দলিল করে দেয়। বাকি ১১ শতকের উপর তরফদাররা দোকান ঘর নির্মাণ করে। পরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম দোকান ভেঙে ফেলে জায়গা দখলে করে নিজেই মার্কেট নির্মাণ করেন।

ভুক্তভোগী ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ, সন্তানরা না খেয়ে দিন কাটায়। অনেক কষ্ট করে ধার দেনা হয়ে দোকান করেছি। দোকান ভাঙার সময় বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে মারপিট করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করি। তিনি সব শুনে দোকান ফেরত পাবো বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনো ফেরত পাইনি।’

জমির মালিকের ছেলে বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অসহায়, এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের একমাত্র জীবিকা উপার্জনের অবলম্বনটি ফেরতের দাবি জানাচ্ছি।’

ছাগলাদাহ বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাসুম গাজী বলেন, ‘এ জায়গাতে প্রথমে তরফদারদের দোকান ছিল। তাদের জায়গার নদী ভাঙন রোধ করতেও তারা অনেক টাকা খরচ করেছে। কিছুদিন পর দ্বীন ইসলাম চেয়ারম্যান হয়ে তার ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে দোকান ভেঙে ফেলে জোরপূর্বক এ জায়গা দখল করে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মনজুরুল আলম বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম জোড়া হত্যা মামলায় ৩২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে আমার চোখের সামনে এই দোকানগুলো ভেঙেছে।’

সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম জানান, তৎকালীন তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে যাওয়ার সময় এই দোকান ঘর গুলোর জায়গা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন। আমি বললাম, এটা আমাদের পরিষদের জায়গা না। তিনি বলেন, আপনি তো এখানে কিছু করতে পারেন। তাই আমি মার্কেট করেছি এবং পরে ডিসি আর নিয়েছি।
তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, দোকান নিয়ে ঝামেলা হয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরেছি। সম্পূর্ণ বিষয়টা যেহেতু আমার নয়, তাই সহকারী কমিশনার ভূমি এর সাথে কথা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন