খুলনায় জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই বলা হলেও পেট্রোল পাম্পগুলোর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। তেলের জন্য খুলনার পাম্পগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। আবার অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল না পেয়ে খালি হাতেই বাড়িতে ফিরে যান। তবে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সংকট সৃষ্টি করছেন কিছু অতি উৎসাহী মোটরযানের মালিক। আবার অনেকে প্রতিদিন মোটরবাইক এবং সিএনজি চালিক মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে পেট্রোল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তা খালি করে পরদিন আবার আসছে জ্বালানি নিতে। কেউ কেউ কালোবাজারেও এসব পেট্রোল অকটেন বিক্রি করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর এভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে জ্বালানি সংকট।
নগরীর পাওয়ার হাউস মোড় কেসিসি পেট্রোলিয়াম, নিউ মার্কেট মেট্রো ফিলিং স্টেশন, জয়বাংলা মোড় মারিয়া ফিলিং স্টেশন, খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড় এলেনা ফিলিং স্টেশন এবং লখপুর খাজুরা আল আরফা ফিলিং স্টেশনের একই অবস্থা। দু’পাশের রয়েছে দীর্ঘ মোটরযানের সারি। তেল নিতে তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা। কোনো অক্ষেপ নেই তাদের। তবে তেল না পেয়ে অনেক গ্রাহকই পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদর্শন করে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকোলজি বিভাগে কর্মরত মোঃ মিজানুর রহমান জানান, দুপুরের খাবার না খেয়ে তিনি তেল সংগ্রহের প্রত্যাশা নিয়ে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে কেসিসি পরিচালিত পাম্পে আসেন। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে পাম্পের মধ্যে আসার সাথে সাথে জানতে পারেন তেল শেষ হয়ে গেছে। তেল না পেয়ে তিনি অনেকটা হতাশ হয়ে পাম্পের মধ্যে অবস্থান করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর খালি হাতে বাড়িতে ফিরে যান তিনি।
খালাশীর মোড়ে কথা হয় বেসরকারি ফার্মে কর্মরত সুমনের সাথে। তিনি জানান, নতুন রাস্তার মোড়ে এলেনা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে পাওয়ার হাউসের মোড়ের পাম্পে অবস্থান করেন। কিন্তু সন্ধ্যায় পাম্প কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে জানান তেল শেষ হয়ে গেছে।
একই অবস্থা খুলনার দৌলতপুর খুলনা ফিলিং স্টেশনে। সেখানে কথা হয় হাসিব আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার নই। বিকেল ৪টার দিকে তেল নেই বলে পাম্প বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। তাহলে তেলগুলো কোথায় যাচ্ছে। তাছাড়া ইদানিং পাম্পগুলোতে মোটরযান নিয়ে যাদের দেখা যাই তাদের আগে কখনও খুলনায় দেখা যায়নি। তাহলে এ বাহনের মালিক কারা। তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক রামপাল উপজেলা থেকে কেসিসি পাম্পে আসা এক গ্রাহক বলেন, ‘এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা প্রয়োজনের অধিক তেল নিচ্ছে। তারা গ্রামে গঞ্জে গিয়ে সংগ্রহ করা তেল অধিক দামে বিক্রি করছে।’
জয়বাংলা মোড়ে অবস্থিত মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ ৩ হাজার অকটেন পেয়েছি। পেট্রোল পাইনি। তেল সংগ্রহ করতে নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে মোস্তর মোড় পর্যন্ত যানবাহনের মালিকেরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত তেল বিক্রি করতে পেরেছি। তেল শেষ হওয়ার কারণে কয়েকজন গ্রাহক পাম্পটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে আমরা যেমন ডিপো থেকে তেল পেয়েছি। এখনও একই তেল একই ডিপো থেকে পাচ্ছি। দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সংকট সৃষ্টি করছে কিছু মোটরযানের মালিকরা। তারা একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে। তেল নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাছাড়া যারা তেল নিচ্ছে তাদের অধিকাংশ এ শহরে নতুন।’ ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ না থামা পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এ আতঙ্ক থাকবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানায়।
খুলনা গেজেট/এনএম

