বৃহস্পতিবার । ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ । ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩

বাবরি মসজিদ হবে না: অমিত শাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যটিতে বাবরের নামে কোনো মসজিদ নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। স্পষ্ট ভাষায় এ কথা জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজ্যটির আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার জনসভা থেকে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রোষানলে পরেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এরপর দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। যদিও বিতর্কের মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারিতে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করেন হুমায়ুন। এরই মধ্যে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলও গঠন করেন তিনি।

শাহের হুঁশিয়ারি, মমতা দিদি, আপনি কান খুলে শুনে রাখুন। আপনি এবং আপনার ভাতিজা যতই শক্তি লাগাক, এই বাংলা ভারতের ভূমি এই মাটিতে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ নির্মাণ হবে না।

শাহ বলেন, রাম মন্দির যাতে নির্মাণ না হয় তার জন্য সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে মুঘল, ইংরেজ, কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের জন্য বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং নরেন্দ্র মোদি সাড়ে ৫০০ বছর পর রাম মন্দির বানিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ করেছে। আর পশ্চিমবাংলায় মমতা তারই দলের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বের করে বিবেকানন্দের মাটিতে বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছে। আপনারাই বলুন মমতাকে কী এখানে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে দেয়া উচিত? জবাবে উত্তর আসে না।

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও কেন্দ্রের সাবেক কংগ্রেস সরকার এবং মমতাকে নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকারকে মমতা সমর্থন দিয়েছিল। সেই সরকারের ১০ বছরের শাসনামলে প্রতিদিন পাকিস্তান মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা ভারতে ঢুকে নাশকতা করত। কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকারে আসার পর জম্মু-কাশ্মীরের উরি, পুলওয়ামা, পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর কেন্দ্রের সরকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুর করে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দেশ থেকে নকশালবাদ দূর করেছি।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাহের বক্তব্য, বাকি আছে কেবল অনুপ্রবেশকারীরা। একবার আমাদের ক্ষমতায় আসতে দিন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে দিন, দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। ত্রিপুরা, আসাম, বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির সরকার তৈরি হলে একটা অনুপ্রবেশকারীকেও এ রাজ্যে ঢুকতে দেব না।

কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজ, কসবা আইন কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মমতা দিদির লজ্জা হওয়া উচিত। তিনি একজন নারী হয়েও নারীদের সুরক্ষা দিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে নারীদের একমাত্র বিজেপিই সুরক্ষা দিতে পারে।

অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের জনসভা থেকে কেন্দ্রকে টার্গেট করে মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশটাকে টুকরো টুকরো করতে চায়। কিন্তু আগামী দিন বিজেপি ভারতবর্ষে থাকবে না, তারা জিতবে না।

তৃণমূলকে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে মমতা বলেন, জোড়া ফুল ছাড়া আপনাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন