বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

বটিয়াঘাটার সালেহা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করল সিজার মোল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বটিয়াঘাটার আলোচিত সালেহা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আসামি সিজার মোল্লা। গত সোমবার বিকেলে খুলনার বটিয়াঘাটা আমলি আদালতের বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

এর আগে গত রবিবার ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে দুপুরের পর আদালতে উপস্থিত করে পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই রেজওয়ান জানান, সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতেন সালেহা বেগম। দেশে ফেরার পর লালন গাজীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ভিকটিম। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা উভয় পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালুর রাস্তা এলাকার জেসমিনের বাড়িতে ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে বসবাস করতে থাকে। এ সময় সুকৌশলে সালেহার বেগমের ব্যাংক থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় লালন গাজী।

বিবাহের রেজিস্ট্রি না থাকায় ভিকটিম লালন গাজীকে চাপ দিতে থাকে ভিকটিম। অন্যথায় স্ত্রীর দাবি নিয়ে তার বাড়িতে অবস্থানের কথা জানায় সে। এ বিষয় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। গত ১৯ আগস্ট বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে তারা উভয় বেড়াতে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে আসে। ওই দিন রাত ১০ টার দিকে সিজার মোল্লার বাড়ির বিপরীতে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে সালেহা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লালন গাজী। পরে মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি লালন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়ও সে। হত্যাকাণ্ডে সিজার মোল্লার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে। সিজার অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির। কোন মোবাইল ব্যবহার করত না। নিজের পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করত না। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। রবিবার ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিবিআই কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। বটিয়াঘাটা আমলি আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন