বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোঃ কেরামত আলী শিকদার গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি প্রত্যক্ষ করেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর সমগ্র জাতি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। পরিকল্পিত গণহত্যার পর সারা দেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। পাকিস্তানী আধুনিক অস্ত্রের কাছে সাধারণ অস্ত্রধারীরা পেরে ওঠে না বাঙালি সৈনিক ইপিআর বিদ্রোহ করে ভারতে সীমান্ত থেকে আক্রমণ রচনা করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ পাকিস্তানীদের উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। তাই সে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে ভারতে যায়। যশোর কালিগঞ্জের বারোবাজার বাগদা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। প্রথমে তাদের দল বনগাঁ শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। বশিরহাটে বিএলএফ (মুজিব বাহিনী) ক্যাম্পে জেলা প্রধান শেখ কামরুজ্জামান টুকুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদের প্রশিক্ষণের জন্য দমদম বিমান বন্দর থেকে উত্তর প্রদেশের শাহারানপুর বিমান বন্দরে নামে। ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি দেরাদুন টাণ্ডুয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সামরিক গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে ব্যারাকপুর সেনানিবাসে ফিরে আঞ্চলিক প্রধান তোফায়েল আহমদের নিকট থেকে রণাঙ্গনের কৌশল সম্পর্কে দিক নির্দেশনা নিয়ে ২/৪ দিন পর সীমান্ত অতিক্রম করে রণাঙ্গনে প্রবেশ করে। রাতে পথ চলা ও দিনে বিশ্রাম এইভাবে কয়েকদিন পর পাইকগাছার পাতড়াবুনিয়া বিএলএফ ক্যাম্পে পৌঁছায়। দক্ষিণ খুলনার বড় রাজাকার ক্যাম্প দখল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হয়। রাজাকারদের গণ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়। পাতড়াবুনিয়া ক্যাম্পে ফিরে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য জেলা কমান্ডার নির্দেশ দেন। বাড়ি ফিরে বড়বাড়িয়া হাইস্কুল ক্যাম্পে যোগ দেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঢাকায় অস্ত্র জমা দেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন