দিঘলিয়ায় বিএনপি দলীয় গাজী পরিবারের ছত্রছায়ায় ৫ আগস্টের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে বহিষ্কৃত ছাত্রদলনেতা ও চাঞ্চল্যকর মুরাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাজ্জাদ। এ হত্যাকাণ্ডের পর তার অপকর্মের বিভিন্ন কাহিনী বের হতে শুরু করেছে। ওই পরিবারের ছত্রছায়ায় একের পর এক সে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ৩/৪ বছর পূর্বে এলএলবি পাস করলেও প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দখল করে রাখে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে মাদক কারবারীর অভিযোগ। প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সেনহাটী পশ্চিমপাড়া একতা সংঘের সভাপতি ও মিয়াপাড়া কওমি মাদ্রাসার সভাপতির পদও বাগিয়ে নেয় সাজ্জাত।
বিভিন্ন অভিযোগে তাকে নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলে প্রভাবশালী ওই পরিবারের সদস্যরা প্রতিবারই রক্ষা কবজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মিথ্যা প্রলোভন এবং প্রেমের অভিনয় করে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে। সাজ্জাদের বাড়ি সেনহাটী গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ জাকির হাওলাদার। ছয় ভাই বোনের মধ্যে সে সবার বড়।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, নামমাত্র সাজ্জাদ একটি ডিটারজেন্ট পাউডার কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেড হিসেবে কাজ করলেও মূলত এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতো সে।
ছেলেকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মরহুম শাহাজান নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে ফয়সাল নামে এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা জোরপূর্বক আদায় করে। ব্যবসার কথা বলে শফিউল আজম দুদুল নামে এক চাকুরিজীবীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকার বিভিন্ন এনজিও, সমিতির অফিসের লোকজনকে ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকা আদায় করত। এছাড়া এলাকায় সে ইয়াবার সরবরাহকারী এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। তার আশ্রয়দাতা প্রভাবশালী ওই পরিবারের ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না।
সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রকাশ্য দিবালোকে তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে নৃশংশভাবে হত্যা করা হয় দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ খাঁ কে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকার মানুষ তার অপকর্ম সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করে।
তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা না থাকলেও এলাকায় যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদেরকে সে লিড দিতো বলে জানতে পেরেছি। উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

