বৈশাখি উৎসবের প্রধান উপকরণ পান্তা-ইলিশ। সাথে মিষ্টি। মিষ্টি লোকালয়ে পাওয়া গেলেও ইলিশের প্রাপ্তি নদী ও সাগরের মুখাপেক্ষী। এ মৌসুমে এ অঞ্চলের মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলোতে কাঙ্খিত ইলিশের মজুত নেই। তাই ৪৫ দিন পর বৈশাখি উৎসবে কাঙ্খিত ইলিশ মেলবে না। আর মিললেও ৮শ’ থেকে ১ হাজার গ্রামের প্রতি কেজির মূল্য হবে ২২শ’ থেকে ২৫শ’ টাকা।
বঙ্গোপসাগর, বলেশ্বর ও কীর্তনখোলা নদীতে কাঙ্খিত ইলিশের উৎপাদন নেই। প্লাস্টিকের কারণে গভীর সমুদ্রে প্ল্যাঙ্কটোন জন্ম না নেওয়ায় ইলিশের বংশ বিস্তার নেই। যা বংশ বিস্তার হচ্ছে, তা জাটকা ধরেই শেষ হচ্ছে। এ মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের খাড়িতে-খাড়িতে ইলিশ মেলে নি। দু’দশ খানা ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘরে ফিরেছে। খুলনার মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলোতে মজুদও নেই। ফলে বৈশাখি উৎসবে অভিজাত রেস্তোরাঁ ও খোলা উদ্যানের উৎসবে নগরীর কোথাও ইলিশ মেলবে না।
সদ্য বিদায়ি সরকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, প্ল্যাঙ্কটোন জন্ম না নেওয়ায় এবং জাটকা নিধন হওয়ায় বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। বলেশ্বর, কীর্তনখোলা, পশুর ও শিবসা নদীতে জাটকা নিধনের উৎসব চলে। বেকারত্ব মোচনের জন্য জেলেরা ছোট সাইজের মাছ ধরতে বাধ্য হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নগরীর ৪নং ঘাটস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ১০৩ মেট্রিক টন ইলিশ আসে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত যার পরিমাণ ছিল ৭৪ মেট্রিক টন।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সূত্রমতে মহিপুর, আলীপুর ও চরদোআনী মোকাম থেকে এ পণ্য আসার পরিমাণ কমে গেছে। সে কারণেই বাজারে সরবরাহ কম। বরিশাল থেকে ট্রলারযোগে মাঝেমধ্যে ৫শ’ থেকে ৭শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ আসে। প্রতি মনের দাম ৩৫ হাজার টাকা। তাছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে ইলিশ ধরা, পরিবহণ, বাজারজাত ও মজুত বন্ধ থাকে। মে থেকে আগস্ট অবধি প্রতিদিন গড়ে রূপসা ও ৪নং ঘাটে ৫০ থেকে ১শ’ কেজি মাছ আসে।
গেল দুর্গাপূজায় ভারতে ১ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি থাকলেও বাজারে সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৪৫ মেট্রিক টন, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি হয় ১০৬ মেট্রিক টন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বছর বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম ছিল। দাদন ব্যাবসা, মধ্যস্বত্বভোগী এবং মজুদের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা অনুমতি পেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি করতে পারেননি।
নগরীর থানার মোড়ের মাছ ব্যবসায়ী শামসুল হকের তথ্য বাজারে ১ কেজি সাইজের ইলিশ নেই। বরিশাল মোকাম থেকে ২৫০ থেকে সাড়ে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ আসছে। ২৫০ থেকে ৩শ’ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজির মূল্য ৭শ’ টাকা, ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ৯শ’ টাকা এবং ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ১৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারির তুলনায় এ মাসে প্রতি কেজির মূল্য ২শ’ টাকা করে কমেছে। প্রতিদিন এ মোড়ে ৪০ থেকে ৫০ কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বিএফডিসি খুলনার ব্যবস্থাপক মো: শামছুল আরেফিন এ প্রতিবেদককে জানান, বৈশাখি উৎসবে ইলিশ মেলবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ উৎপাদন কম, সে কারণেই সরবরাহ কম।
খুলনা গেজেট/এনএম

