বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২
গ্রামের প্রতিটি পরিবারে উৎসাহ

ফ্যামিলি কার্ড : ধরণা দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কাছে, প্রতারকরা সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। গ্রামের প্রতিটি পরিবারের মধ্যে এখন উৎসাহ এই কার্ড নিয়ে। অধিকাংশ পরিবারের মহিলা সদস্যরা একটি কার্ডের আশায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন। তবে সুযোগ সন্ধানী প্রতারক চক্রও কার্ড দেওয়ার কথা বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পথ খুঁজছে। ইতোমধ্যে একটি চক্র গ্রামে গ্রামে যেয়ে মহিলাদেরকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করছে। সরেজমিন গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এটি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে যে সব ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তার বিপরীতে কার্ডধারী মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ জেড এম এ জাহিদ হোসেন ইতোমধ্যে জানিয়েছেন আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এ কার্ডের আওতায় আনা হবে। সরাসরি একটি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর কাছে কার্ডের মাধ্যমে এ অর্থ বরাদ্দ হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। দুর্গম-চরাঞ্চল ও উপকূলের ৮ উপজেলায় আগামী ১০ মার্চ এ কার্ড চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

প্রথমদিকে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবার এ সুবিধা পাবে। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য রাখা হবে না বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সাল’ রাখা হবে এ কার্ড। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে এ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বল্প পরিসরে এ কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নিলেও প্রতিটি গ্রামে এখন ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে উৎসাহ বেশি। বিশেষ করে মহিলারা বেশি আগ্রহী এ ফ্যামিলি কার্ড পেতে। যে কারণে তারা এখনই জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরণা দিচ্ছে। কেউ বা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যেয়ে দেনদরবার শুরু করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার প্রয়াত এক উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাইপো। তিনি ইতোমধ্যে গ্রামে গ্রামে যেয়ে মহিলাদেরকে নানাভাবে বুঝিয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি সংগ্রহ করছে। ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেকের বাড়িতে যেয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গৃহকর্ত্রী বলেন, “ওই ছেলেটি তার কাছে কয়েকবার যেয়ে নানা প্রকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অনেকের আইডি কার্ডও তাকে দেখিয়ে বলেছেন আপনি না দিলে আপনার সমস্যা হতে পারে। এভাবে চটকদার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।”

এছাড়াও অনেকে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া শুরুর আগে এ প্রতারক চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন ও দায়িত্বশীলদের সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন