দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজার হাট ইজারার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সেনহাটী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ খান। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দিঘলিয়া থানা পুলিশ গতকাল শনিবার বিকেলে সেনহাটী নিজ বাড়ি থেকে আলহাজ্ব সারোয়ারখান কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার বাদ আসর হাজীগ্রাম ঈদগাহ ময়দানে নিহত মুরাদের নামাজে জানাজা শেষে মাদ্রাসা কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি নিহত মুরাদের চার সন্তানের দেখভালের প্রতিশ্রুতি দেন। জানাজা’য় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, জেলা যুবদলনেতা এবাদুল হক রুবায়েত, উপজেলা বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান মিন্টু, আব্দুর রকিব মল্লিক, শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, মোল্লা নাজমুল হক, মোল্লা মনিরুজ্জামান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু প্রমুখ।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা চৌরাস্তার মোড়ে দিঘলিয়ার ১১টি হাট বাজারের টেন্ডারের ইজারা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক চলছিল। সমঝোতার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা তাতীদলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই বিশ্বাস ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম রেজা। বৈঠকের এক পর্যায়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন ও সেনহাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন দাবি করেন পথের বাজার হাট যাকে ইজারা দেওয়া হবে তার কাছ থেকে ইজারার অর্ধেক টাকা তাদেরকে আদায় করে দিতে হবে। এ কথার প্রতিবাদ করে যুবদল নেতা মুরাদ। এ সময় ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ এবং আলামীন যুবদল নেতা মুরাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং উত্তেজনা দেখা দেয়। নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার পর ছাত্রদলনেতা সাজ্জাদ মুরাদকে জীবননাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে যুবদল নেতা মুরাদ দৌলতপুরে ব্যক্তিগত কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি হাজীগ্রাম ফেরার পথে সেনহাটী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী লোটোর একটি দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রেখে বাচ্চার জন্য জুতা কেনার উদ্দেশ্যে যায়। পূর্ব থেকে ওই দোকানে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ বসাছিল। মুরাদকে দেখামাত্র সে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং একে একে মোবাইলে কল করে কয়েকজন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ডেকে দোকানের সামনে জড়ো করে। অবস্থা বেগতির দেখে এলাকাবাসী মুরাদকে দোকানে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ সময় সাজ্জাদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন কর্মী দোকানের তালা ভেঙে মুরাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত মুরাদ ছিলেন সেনহাটী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। হাটের ইজারার শিডিউল না কিনলেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে ওইদিন উপজেলা চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত ছিলেন।
হাট ইজারা নেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকলেও ভাগের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদের নেতৃত্বে ৭/৮ আট জন মিলে দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমন হোসেনের নামে শিডিউল ক্রয় করে। গত বছরও একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলো বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিলে সমঝোতা করে হাট বাজারগুলোর ইজারার দখল নেয়। উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম রেজার নামে শিডিউল ক্রয় করে সমঝোতার মাধ্যমে গত বছরও পথের বাজার হাট ইজারা নেয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জিনিয়াস।
খুলনা গেজেট/এনএম

