বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ বহিস্কার

দলীয় কোন্দলেই যুবদল নেতা মুরাদ খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজারের ইজারার টাকা ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খুন হন যুবদল নেতা খান মুরাদ। শনিবার দুপুরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পুলিশ, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়রা জানায়, খান মুরাদ সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। উপজেলা পথের বাজারে তার একটি ইলেক্ট্রনিক দোকানের পাশাপাশি তিনি ড্রেজারের ব্যবসা করতেন।

সূত্র জানায়, স্থানীয় পথের বাজারের ইজারাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলা মোড়ে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (সাময়িক বহিষ্কৃত) সাজ্জাদ হোসেনের সাথে খান মুরাদের বিরোধ বাধে। ওই দিন দুপুরে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মুরাদ স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু ছাত্রদলের ওই নেতা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা হয়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

সূত্রটি আরও জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ, তার বাবা, ভাই সজীবসহ আরও কয়েকজন পথের বাজার লোটোর শোরুমের কাছে অবস্থান নেয়। ওই সময় মেয়ের জন্য জুতা কেনার জন্য যুবদল নেতা মুরাদ তার সহযোগী নজরুলকে সাথে নিয়ে লোটোর দোকানে যায়। আগে থেকে উপস্থিত থাকা সজ্জাদ ও ভাই সজীবসহ অন্যান্যরা মুরাদের ওপর চড়াও হয়। তাকে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মুরাদকে শোরুমের গোডাউনের মধ্যে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সাজ্জাদ মোবাইল করে অন্যান্য সহযোগীদের ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে আসে এবং তাকে গোডাউনের ভেতর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর করতে থাকে। সাজ্জাদের সাথে থাকা যুবকের মধ্যে একজন হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দু’পায়ের রগ কেটে দেয়। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত মুরাদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

নিহত মুরাদের সহযোগী নজরুল বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যেখানে ওই ছাত্রদল নেতার সাথে তার বাবা জাকির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন এবং মারামারিতে অংশ নেয়।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘হত্যাকারী যে দলের হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত না করে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পাচ্ছি সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন