খুলনায় ডাক বিভাগের ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিজওয়ানুর রশিদ ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে লিখিত নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে পরীক্ষা ও কলেজের কর্তৃপক্ষ বলছেন এটি ভুল বোঝাবুঝি। ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মোঃ হাফিজুর রহমানকে শোকজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কলেজের ৫০৮ কক্ষের হল সুপারের কাছ থেকে একটি প্রশ্ন নিয়ে দেখছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার হলের বাহিরে বারান্দায় যান।
এসময় পরীক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি কেনো প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার হলের বাহিরে গেলেন প্রশ্ন তোলেন সকলে। পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই সাধারণ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। একইসঙ্গে তারা ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কলেজের পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বলেন, পরীক্ষা কমিটির চার সদস্যের একজন শিক্ষক হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনি প্রশ্ন নিয়ে দেখতে থাকেন।
এক পর্যায়ে পরীক্ষার ঘন্টা বাজানো হলে তিনি প্রশ্ন হাতে থাকা অবস্থায় বারান্দায় যান কে ঘন্টা দিল সেটি দেখার জন্য। পরক্ষণেই তিনি কক্ষে প্রবেশ করলে কয়েকজন জিজ্ঞাসা করেন প্রশ্ন নিয়ে কেন বারান্দায় গেল ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনাটি ভুল প্রমাণিত হয়। এটি সমাধান হয়ে গেছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজি কবির বলেন, এটা একটি ভুলবুঝাবুঝি। ওই শিক্ষক কমিটির সদস্য। তাকে পিএমজিতে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ও লিখিত নেওয়া হয়। তার ভুল হয়েছে তিনি কেনো প্রশ্ন খুলে দেখলেন। এটি নিয়ে একটি গ্রুপ ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। তবুও এ বিষয়ে তার কাছে ব্যাখা চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হবে। তার জবাব কি আসে দেখার বিষয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

