গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে হামলা ও গল্লামারীতে নিহত পুলিশ সদস্য সুমন হত্যার তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে। অভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে বেতারের ১শ’ কোটি টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়। এ সব ঘটনায় সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানায় পৃথক মামলা হয়। গত ১৮ মাসে এ সব মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ধামাচাপা পড়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে জুলাই দায় মুক্তির আওতায় এনে এ সব মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছিল দ্রোহযাত্রা কর্মসূচি। এ দিন শিববাড়ি, খুবি, জিরোপয়েন্ট, সাচিবুনিয়া ও গল্লামারী ছিল উত্তাল। ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও কাঁদনে গ্যাস-রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য সুমন কুমার ঘরামি নিহত হন। তিনি কেএমপি কমিশনারের দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কিসমত মালিপাটান গ্রামে সুশীল কুমার ঘরামির পুত্র ছিলেন। একই দিনে লবণচরা থানায় হামলা হয়। পুলিশ নিহতের ঘটনায় এসআই মোস্তফা সালাইন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।
একই দিনে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এ সব মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ হাজার ব্যক্তিতে আসামি করা হয়। ৫ ও ৬ আগস্ট বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বেতারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: শাহ আলম ২৭ আগস্ট বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় জিডি করেন। এতে উল্লেখ করা হয় বেতারের ১শ’ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তদন্তের দাবি ওঠালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ হত্যা এবং স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে গ্রিন স্নিগন্যাল মিলেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলেছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের স্থাপনায় হামলা ও সদস্যদের হত্যা করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। দেড় বছরেও তদন্ত না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারের শীর্ষ মহলের কেউ কেউ। তবে পুলিশের একাধিক ইউনিট হামলার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ এবং আলামত সংগ্রহ করে রেখেছে। এখন পুলিশের স্থাপনায় হামলা-আগুন ও সদস্যদের হত্যার ঘটনা তদন্ত করে মামলা করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ বার্তা এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ্উদ্দীন আহমদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হত্যা ও থানায় হামলার ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। সরকার থেকে বিশেষ বার্তা গেছে পুলিশ সদর দপ্তরে। পুলিশ হত্যা, থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় আরও মামলা হবে দ্রুত। ক্রিমিনাল ইভেন্ট কখনও তামাদি হয় না। পুলিশ হত্যা ও থানায় লুটপাটের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে ছাত্র জনতা খুলনা বেতার ভবন ঘেরাও করলে ২০ জন সশস্ত্র পুলিশ দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানকালীন সময় খুলনা রেঞ্জে ১০টি মামলা রুজু হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

